
শেষ আপডেট: 9 November 2020 18:30
ভারত, চিন ও ভুটান সীমান্তে ডোকলাম মালভূমিকে নিজের দেশের অংশ বলে মনে করে ভুটান। ভারত এই দাবি মেনে নিলেও, চিন দাবি করে ডোকলাম মালভূমি তাদের দেশের অংশ। ২০১৭ সালে ডোকলাম সীমান্তের কাছে রাস্তা তৈরি শুরু করে চিন। পূর্ব সিকিমের কাছে ডোকলাম থেকে সাড়ে চার কিলোমিটার দূরে সেই রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তাতে তীব্র আপত্তি জানায় ভারত। সিকিম পেরিয়ে শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেন’স নেক-এর কাছে ডোকলামে পৌঁছে যায় ভারতীয় সেনা। মুখোমুখি হয় চিনের বাহিনীও। প্রায় আড়াই মাস ধরে দুই দেশের বাহিনী এইভাবে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছিল। কূটনৈতিক পথেই উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছিল শেষ পর্যন্ত। দু’দেশের শীর্ষ নেতৃত্বই ডোকলাম থেকে সেনা সরাতে রাজি হয়। কিন্তু ডোকলাম সীমান্তের ও পারে তথা ত্রিদেশীয় সীমান্তের খুব কাছাকাছি এলাকায় চিনের বাহিনীর তৎপরতার খবর মাঝে মাঝেই আসে।
পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে সংঘর্ষের আগে উত্তর-পূর্ব সীমান্তে চিনা ও ভারতীয় সেনার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় নাকু লা-য়। ভারতীয় সেনা জানায়, নাকু লা সেক্টরে সীমান্ত চুক্তি লঙ্ঘন করে এগোচ্ছিল চিন। বিষয়টি চোখে পড়ার পরেই ভারতীয় সেনা রুখে দাঁড়ায়। দুই দেশের সেনাবাহিনীর জওয়ানদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। নাকু লা-তে দু’দেশের প্রায় দেড়শ সেনা মুখোমুখি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। উপগ্রহ চিত্র দেখাচ্ছে, এই নাকু লা-তে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে চিনের বাহিনী। এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম মোতায়েন করা হচ্ছে। নতুন উপগ্রহ চিত্রে আরও দেখা গেছে, ডোকলামের যে জায়গায় চিন ও ভারতের বাহিনী মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল সেখান থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে নতুন সামরিক কাঠামো তৈরি করেছে চিনের সেনা।
গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষই শুধু নয়, গত মে থেকে জুন মাসের মধ্যে একাধিকবার চিনের বাহিনীর মুখোমুখি হয়েছে ভারতীয় সেনা। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর টহলদারির সময় লাদাখে আকছার চিনা সেনা নিয়্ন্ত্রণ রেখা টপকে ভারতের দিকে চলে আসে। তা সিকিম সেক্টরেও মাঝে মধ্যে হয়। কিন্তু প্রতিবারই দেখা যায়, দুই পক্ষের মিলিটারি কমান্ডার স্তরে বৈঠকের পর বিরোধ মীমাংসা স্থানীয় ভাবেই হয়ে যায়। তাতে কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু মে মাসের গোড়া থেকে শুধু সীমান্ত উত্তেজনাই বাড়াচ্ছে না চিনের ফৌজ, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারতীয় নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ঢুকে আসার চেষ্টাও করছে।
ভারতের সেনা সূত্র জানাচ্ছে, গালওয়ানে সংঘাতের আগে থেকেই ডোকলাম নজরে ছিল চিনের বাহিনীর। চিন-ভুটান সীমান্তের মধ্য ও পশ্চিম সেক্টরে বহুদিন ধরেই তৎপর লাল ফৌজ। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুটানকে চাপে রাখতেই চিনের এই কৌশল। পূর্ব লাদাখের একটা বড় অংশ চিন যেমন নিজেদের বলে দাবি করে, তেমনি চিন-ভুটান সীমান্তের পশ্চিম সেক্টরে ৩১৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকা ও মধ্য সেক্টরের ৪৯৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় চিন নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া। ওই এলাকায় নিয়মিত টহলদারির পাশাপাশি সেনা মোতায়েনের জন্য পরিকাঠামোও গড়ে তোলা হয়েছে বলে খবর।
ভারতীয় সেনা সূত্র জানাচ্ছে, ভুটান সীমান্তে এখনও সামরিক বিন্যাসের কাজ চলছে। ডোকলামের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর থেকে পশ্চিম সেক্টরের বেশ কয়েকটি এলাকা চিনা ফৌজের অনুপ্রবেশেরও খবর মিলেছিল। সূত্র জানাচ্ছে, পূর্ব ভুটানের প্রায় ৪০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে চুম্বি উপত্যকা বরাবর রাস্তা, হেলিপোর্ট ও এয়ার বেস তৈরি শুরু করেছে চিনের বাহিনী। অন্যদিকে, ডোলং চু পার হয়ে দক্ষিণ ডোকলামের কাছেও লাল সেনা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।