
শেষ আপডেট: 3 May 2023 05:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাল্যবিবাহ (Child marriages) কমছে গোটা বিশ্বে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, এতে ভারতের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের শিশুকল্যাণ সংস্থাটি জানাচ্ছে, নাবালিকাদের বিয়ে সব থেকে বেশি কমেছে দক্ষিণ এশিয়ায়। ভারতেও যে হারে নাবালিকা বিয়ে হচ্ছিল, তা এখনও অনেক কম। তবে বাল্যবিবাহের যে সংস্কার মনে গেঁথে আছে তাকে সহজে দূর করা সম্ভব নয়। আরও অন্তত ৩০০ বছর থাকবে এই প্রথা।
ইউনিসেফের রিপোর্ট বলছে, গত ১০ বছরে নাবালিকা বিয়ে অনেকটাই কমেছে। তবে এখনও এই প্রথা সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৬৪ কোটি মেয়ের বিয়ে হয়ে যায় ১৮ বছরের নীচে। প্রতি বছর এশিয়ার দেশগুলোতে ১ কোটিরও বেশি মেয়ের বিয়ে হয় প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই। আইনকে ফাঁকি দিয়ে গোপনে এই প্রথা এখনও চলছে। মানুষের মন থেকে সংস্কার সম্পূর্ণ দূর করা যায়নি।
সারা বিশ্বে ১৮ বছরের নীচে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা ৫০ থেকে নেমে হয়েছে ৩০ শতাংশ। এই পরিবর্তনের কারণগুলিও চিহ্নিত করেছে ইউনিসেফ। এক, মেয়েদের শিক্ষার হার বাড়ছে। দুই, বাড়ছে কিশোরীদের জন্য বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প। তিন, বাল্যবিবাহ যে অবৈধ ও এর কুফল নিয়ে সমাজের জোরাল বার্তারও ভূমিকা রয়েছে। এই সবেরই মিলিত ফল স্পষ্ট পরিসংখ্যানেও। বিশ্বে এক দশক আগেও যেখানে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে শতকরা ২৫টি মেয়ের বিয়ে দেওয়া হত, এখন তা ২০-তে নেমে এসেছে।
ইউনিসেফের রিপোর্ট বলছে, ভারতেও বাল্যবিবাহ অনেকটাই কমেছে। যা ২০০৫ সালে ৪৭.৪ শতাংশ ছিল ২০২১ সালে তা ২৩.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে৷ সাম্প্রতিক জনসংখ্যার উপর করা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সংশ্লিষ্ট দফতরের সমীক্ষার ফল বলছে, ঝাড়খণ্ডে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটে। সমীক্ষাটি অনুযায়ী, ভারতে ১.৯ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়ে যায় ১৮ বছরে পৌঁছনোর আগেই। এই সমীক্ষায় সবচেয়ে ভাল অবস্থায় রয়েছে কেরল। সেখানে এক জন মেয়েরও ১৮ পেরোনোর আগে বিয়ে হয় না। আর ঝাড়খণ্ডে প্রতি ১০০ মেয়ের মধ্যে ৫.৮ জনের বিয়ে হয় বয়স ১৮ পেরোনোর আগেই।
মোদীর ভারত ধর্মাচরণের স্বাধীনতায় ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ মার্কিন সংস্থার রিপোর্টে