
শেষ আপডেট: 18 May 2020 18:30
ক্রাই-এর সিইও পুজা মারওয়াহা বলছেন, লকডাউনের এই পরিস্থিতিতে শিশুদের জন্য কোনও বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়নি। বিশেষত প্রত্যন্ত এলাকার শিশুরা বিপন্ন। খাদ্য, পুষ্টি, শিক্ষা সবকিছুতেই প্রভাব পড়েছে শিশুদের উপরে। তাদের মানসিক স্বাস্থ্যও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমীক্ষা বলছে, লকডাউনের কারণে শিশুদের মেডিক্যাল চেকআপ থমকে গেছে অনেক জায়গাতেই। তাদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ানোর মতো স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া হয়নি অনেক জায়গাতেই। এই ঘাটতি বেশি দেখা গেছে উত্তরের রাজ্যগুলিতে (৩১%), এর পরেই আছে দক্ষিণের রাজ্যগুলি (২৭%)।
কোভিড সংক্রমণের খারাপ প্রভাব পড়েছে ৩-৫ বছর বয়সী শিশুদের উপরে, বোধশক্তি তৈরি হয়েছে যাদের এমন কিশোর-কিশোরীদের মনেও এক অজানা ভয় বাসা বেঁধেছে। বাইরে বের হতে না পারা, ছুটোছুটি, খেলাধূলা, স্কুল, টিউশন বন্ধ থাকায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত কমবয়সীরা। ক্রাই-এর রিপোর্ট বলছে, লকডাউনের প্রভাব পড়েছে শিক্ষাক্ষেত্রেও। অভিভাবকদের মতামত নিয়ে জানা গেছে, স্কুল বা টিউশনের পরিবেশে যে পড়াশোনা হত, বাড়িতে সেটা একেবারেই হয় না। তাছাড়া সারাদিন বন্দি জায়গায় থাকতে থাকতে পড়াশোনার আগ্রহও ক্রমশই কমছে শিশু ও কম বয়সীদের মধ্যে। এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি উত্তরের রাজ্যগুলিতে প্রায় ৮৭%, এবং দক্ষিণে ৫৬%।
বাইরের খেলাধূলার রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ থাকায় টিভি বা অনলাইন গেমে আসক্তি বেড়েছে বাচ্চাদের। মোবাইলে গেম, অনলাইনে ভিডিও গেম, কার্টুন, সিনেমা, ইন্টারনেট ইত্যাদিতে ক্রমশই ডুবে যাচ্ছে শিশু ও কিশোর মন। দেশের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে ৪০% পরিবার থেকেই এমন অভিযোগ এসেছে। বাবা, মায়েরা বলছেন গল্প, আড্ডা বা সৃজনশীল কাজের থেকে ডিজিটাল মাধ্যমেই বেশি সময় কাটাচ্ছে বাচ্চারা।
ক্রাই-এর সিইও পূজা মারওয়াহা বলছেন, “লকডাউনের পরিবেশেও বাচ্চাদের শরীর ও মন সুস্থ্য রাখতে কী করতে হবে তার উপায় বার করতে হবে আমাদের। চার দেওয়ালে মধ্যে থাকার যৌক্তিকতা কী সেটা সহজভাবে বোঝাতে হবে। পাশাপাশি জোর দিতে হবে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও। ভয় বা আতঙ্ক নয়, সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে শিশুদের হাসিখুশি জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে।” যতদিন মুক্ত পরিবেশে বের হওয়ার সুযোগ মিলছে না, ততদিন এই উদ্যোগ নিতে হবে অভিভাবকদেরই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, শিশুদের আবার আগের রুটিনে ফিরিয়ে আনার দায়িত্বও নিতে হবে, এমনটাই বলছেন শিশু বিশেষজ্ঞরা।