শ্রমিক পরিমল মহন্তের টিনের ঘরের উপর হুড়মুড় করে পাঁচিল ভেঙে পড়তেই চাপা পড়ে যায় ঘরের ভেতরে শুয়ে থাকা তাঁর দুই শিশু সন্তান— তিন বছরের মধুমিতা মহন্ত ও দেড় বছরের দেবায়ন মহন্ত।

পাঁচিল ধসে ২ শিশুর মৃত্যু
শেষ আপডেট: 13 August 2025 14:13
মঙ্গলবার রাত ৯ টা থেকে শিলিগুড়ি শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় শুরু হয় আকাশভাঙা বৃষ্টি। রাত বারোটা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা অবিরাম বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে গোটা শহর ও আশপাশের অঞ্চল। আর ঠিক সেই সময়েই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। পাশের বাড়ির পাঁচিল ভেঙে পড়ে মৃত্যু হল দুই শিশুর।
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ভোরের আলো থানার পাঘালুপাড়ায় ভেঙে পড়ে একটি বাড়ির পাঁচিল। পেশায় শ্রমিক পরিমল মহন্তের টিনের ঘরের উপর হুড়মুড় করে পাঁচিল ভেঙে পড়তেই চাপা পড়ে যায় ঘরের ভেতরে শুয়ে থাকা তাঁর দুই শিশু সন্তান— তিন বছরের মধুমিতা মহন্ত ও দেড় বছরের দেবায়ন মহন্ত। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাদের।
সেই সময় পরিমল মহন্ত ও তাঁর স্ত্রী বাড়ির উঠোনে জমে থাকা জল নামানোর জন্য নালা কাটছিলেন। হঠাৎ চিৎকার শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা, ভাঙা ঘর থেকে শিশুদের উদ্ধার করে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু চিকিৎসকরা দুজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই এলাকায় অত্যন্ত গরিব ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের বসবাস, অধিকাংশ ঘরই টিনের। পরিমলের মা ইন্দিরা মহন্তর নাম উঠেছিল আবাস যোজনার তালিকায়। আগামী মাসে প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। পরিমলের আক্ষেপ, "আবাস যোজনা ঘরের জন্য আবেদন করেছিলাম তবে সেটা মায়ের নামে ছিল। স্থানীয় পঞ্চায়েতের সাথে কথা বলাতে তিনি জানিয়েছেন পরের মাসে আবাসনের ঘর পাব আমরা। আজ যদি আবাস যোজনার ঘর থাকত, তাহলে হয়তো এভাবে সন্তানদের হারাতে হত না।”
বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায়। তিনি পরিবারের সাথে কথা বলে আশ্বাস দেন, আজকের মধ্যেই থাকার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে এবং সবরকম সহায়তা করা হবে। একইসাথে তিনি অভিযোগ করেন, “বাংলা আবাস যোজনা ও ১০০ দিনের কাজের টাকা কেন্দ্রীয় সরকার বন্ধ করে দিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী নিজের চেষ্টায় সেই টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন।”
এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রাকৃতিক বিপর্যয় মুহূর্তে কেড়ে নিল দুইটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ, ভেঙে চুরমার করে দিল এক পরিবারকে।