
শেষ আপডেট: 27 October 2023 15:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: বুধবার সন্ধেয় সুস্থ সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন এক প্রসূতি। ভোরের আলো ফুটতেই জানা গেল সদ্যোজাত আর বেঁচে নেই। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধমার কাণ্ড ঘটে গেল হাওড়ার বড়গাছিয়ার এক নার্সিংহোমে। প্রসূতির পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকদের গাফিলতিতে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
হাওড়া জগৎবল্লভপুর থানা এলাকার বড়গাছিয়ায় অবস্থিত এই নার্সিংহোম। মনীষা ঘোড়া নামে এক মহিলা বুধবার প্রসবযন্ত্রণা নিয়ে ওই নার্সিংহোমে ভর্তি হন। বুধবার সন্ধে ছ’টা নাগাদ এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি। প্রসূতির পরিবারের দাবি, পরিবারের লোকজন মা ও শিশুকে সুস্থ দেখেই বাড়ি গিয়েছিলেন। ভোরে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ফোন করে প্রসূতির বাড়ির লোককে জানায় সদ্যোজাত হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
এই খবর পাওয়ার পরেই প্রসূতির স্বামী ও আত্মীয়রা নার্সিংহোমে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, ওই শিশু মারা গিয়েছে। এরপরেই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রসূতির আত্মীয়দের বচসা শুরু হয়। তাঁদের প্রশ্ন, 'কয়েকঘণ্টা আগেও সন্তান সুস্থ ছিল। আচমকা কী এমন ঘটল, যে শিশুটি মারা গেল।'
এরপরেই চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ এনে নার্সিংহোমে ভাঙচুর চলে। উত্তেজনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ। মনীষার স্বামী প্রসেনজিৎ ঘোড়ার অভিযোগ, তার সদ্যোজাত সন্তানের মৃত্যুর জন্য চিকিৎসক ও নার্সরা দায়ী। তাঁদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। নার্সিংহোমের এক নার্স রিঙ্কু মালিক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর অনুমান, ‘ব্রেস্ট ফিড' করানোর সময়ে হয়তো কোনও সমস্যার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।
প্রসূতি মনীষা ঘোড়া জানিয়েছেন, সকালে নার্সরা মেয়েকে তাঁর কাছ থেকে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে আবার মেয়েকে কোলে দিয়ে দুধ খাওয়াতে বলেন। দুধ খাওয়াতেই মেয়ের নাক থেকে গল গল করে রক্ত বেরতে থাকে। ভয়ে চিৎকার করে নার্সদের ডাকাডাকি করি। কিন্তু তাঁরা আসার আগেই মেয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। প্রসূতির অভিযোগ, মেয়েকে নার্সরা হয়ত করতে ফেলে দিয়েছিলেন।