দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার আইনজীবী উৎসব বৈঁস দাবি করেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনার জন্য তাঁকে ঘুষ দিতে চাওয়া হয়েছিল। বুধবার তিনি কোর্টে ওই অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দেন। একটি মুখ বন্ধ খামে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেন আদালতে। পরে জানা যায়, সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে তিন বিচারপতির সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন।
বিচারপতিরা জানিয়েছেন, কোনও তদন্ত হচ্ছে না। আমরা সিবিআই, আইবি ও দিল্লি পুলিশের প্রধানের সঙ্গে দেখা করেছি।
প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিচারবিভাগের স্বাধীনতার ওপরে আঘাত আসছে। বিচার বিভাগকে বলির পাঁঠা বানানো ঠিক নয়। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট থেকে বৈঁসকে নির্দেশ দেয়, একটি হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে, কীভাবে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছিল। ওই ষড়যন্ত্রে যারা যুক্ত তাদের নামও জানাতে বলা হয়।
বুধবার সুপ্রিম কোর্ট বলে, আইনজীবী বৈঁসের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করার জন্য বিশেষ তদন্তকারী টিম গঠিত হোক। সেই টিম আদালতের অধীনে থেকে কাজ করবে। বৈঁস বলেন, এখন সিবিআইকে উদ্দেশ্যপূরণের যন্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, এক্ষেত্রে বিচারবিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত। এর পিছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র আছে। আমরা দেখেছি, কীভাবে সিবিআইকে উদ্দেশ্যপূরণের যন্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। বিচারবিভাগের অফিসারদেরই তদন্ত করা উচিত।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, আমার কাছে একটি সিসিটিভি ফুটেজ আছে। তাতেই সব অভিযোগের প্রমাণ মিলবে। আমি সেই ফুটেজ কোর্টে পেশ করেছি। যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি খুবই প্রভাবশালী। আদালত পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে, বৈঁসের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, আগামী দিনে সুপ্রিম কোর্টে কয়েকটি বিশেষ গুরুত্বপুর্ণ মামলা শোনার কথা আছে আমার। সেজন্যই নানা অভিযোগ উঠছে। তাঁর কথায়, ব্যাপারটা খুব বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমি বিচারপতি হিসাবে নিজের কাজ করে যাব। আমার ভয় নেই।
একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যে মহিলা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তিনি অতীতে অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে দু’টি পুলিশ কেস আছে।