
শেষ আপডেট: 11 January 2024 21:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। ইডি আধিকারিকদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশও করেছিলেন তিনি। তলব করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে। তারপর ৬ দিন কেটে গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে রাজভবন যান মুখ্যসচিব ভগবতী প্রসাদ গোপালিকা ও স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী।
এদিন বিকেলে পাঁচটার পর মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব একসঙ্গে রাজভবনে আসেন। সূত্রের খবর, সন্দেশখালি কাণ্ডে রাজ্য কী কী পদক্ষেপ করেছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়াও 'পলাতক' তৃণমূল নেতা শেখ শাহাজানের সন্ধানের ব্যাপারে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এব্যাপারেও খোঁজখবর নেন বোস। রাজ্যের সামগ্রিকব আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে গত ৫ জানুয়ারি তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে ইডি হানাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল সন্দেশখালিতে। কেন আগে থেকে না জানিয়ে ইডি আধিকারিকরা, তৃণমূল নেতার বাড়ি এলেন, সেই প্রশ্ন তুলেই বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। তারপরই ইডি আধিকারিকদের ওপর চড়াও হয় উত্তেজিত জনতা। অভিযোগ, শেখ শাহজাহানের অনুগামীদের মারে মাথা ফাটে ইডি অফিসারদের। তাঁদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
রাজভবন রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যসচিব ভগবতী প্রসাদ গোপালিকা ও স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য-রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে, এই অভিযোগ তুলে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের দাবি করছে বিজেপি। পাল্টা তৃণমূলও ইডির বিরুদ্ধেই প্ররোচনার অভিযোগ তুলেছে। এমনকী সন্দেশখালির ঘটনায় কড়া পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ও। তাঁর প্রশ্ন, কেন রাজ্যপাল ঘোষণা করছেন না যে রাজ্যে সাংবিধানিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে?
তারপরই দেখা যায় এই ঘটনায় কড়া মন্তব্য করেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, 'বাংলায় অপশাসন চলবে না। সরকারের দায়িত্ব গণতান্ত্রিক কাঠামোয় বর্বরতা ও নৈরাজ্যেকে কঠোর হাতে দমন করা। সরকার তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সংবিধান নিজের পথে চলবে।' এমনকী এই ব্যাপারে নবান্নের কাছে রিপোর্টও চেয়েছিলেন রাজ্যপাল।