
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 22 January 2025 14:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলিপুর দুয়ারে বন দফতরের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, "আপনারা কি নিজেদের ভগবান মনে করেন? তা না হলে এগুলো হয় কী করে?"
ঘটনার সূত্রপাত, আলিপুর দুয়ারের যে গেস্ট হাউসে মুখ্যমন্ত্রী উঠেছেন, তার দেওয়ালে বন দফতরের একটি সতর্কতার পোস্টার! যাতে লেখা, "পাচারকারীদের গুলি করে মারা হবে'! এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে ওই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "হনুমানগুলোকে থ্যাঙ্কস, ভাগ্যিস ওরা ছিঁড়ে দিয়েছিল!"
মুখ্যমন্ত্রীর মুখে একথা শুনে প্রশাসনিক কর্তারা একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি শুরু করেন। তখনই রহস্য নিরসনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বন দফতরের পোস্টারে লেখা-পাচারকারীদের গুলি করে মারা হবে, এটা কোনও ল্যাঙ্গোয়েজ হল? আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এটা লেখা হল না কেন?"
এ সময় নিজের মোবাইলে তোলা ছবি দেখিয়ে ক্ষুব্ধ মমতা মুখ্যসচিবের উদ্দেশে বলেন, "কে আছেন ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের? মনোজ লিসেন টু মি ভেরি কেয়ারফুলি। আমি যেখানে আছি সেখান থেকে এই ছবি তুলে আনলাম।"
এরপরই আলিপুর দুয়ারের বন দফতরের একাধিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার কথায়, "অনেকে জানে না, ভুল করে ফরেস্টের রাস্তা দিয়ে ঢুকে পড়েন। তাঁদের ওপর অত্যাচার করা হয়। এটা কেন হবে? মনে রাখবেন বন, অরণ্য, জঙ্গলের প্রতি মানুষেরও অধিকার রয়েছে।"
এরপরই মমতার নির্দেশে মুখ্যসচিব বলেন, "অনেকে পিকনিক করতে এসে আলিপুরদুয়ারে বাধার মুখোমুখি হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা মিটিং করেছি। তবে এটা হওয়া ঠিক ছিল না। এভাবে পর্যটকদের বাধা দিতে পারেন না।"
ইশারায় তাঁকে থামিয়ে জেলার বন কর্তাদের উদ্দেশ্যে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এভাবে তো আপনারা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, লোকে তো আপনাদের চেনে না, দায় আমাদের ওপরে আসে। আমরা তো ছেড়ে কথা বলব না।"
মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা, জেলার সঙ্গে রাজ্যের বন দফতরের সমন্বয়ে ঘাটতি রয়েছে। সমস্যা মেটাতে এ জন্য এখন থেকে সপ্তাহে একদিন ভিডিও কনফারেন্সের নির্দেশও দেন তিনি।