
শেষ আপডেট: 2 November 2023 20:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাম্প্রতিক অতীতে বারেবারে সংঘাতের আবহ দেখা গিয়েছে নবান্ন বনাম রাজভবনের। এমন আবহে বৃহস্পতিবার একেবারে অন্যরকম প্রেক্ষাপট দেখা গেল।
বিজয়ার পর শুভেচ্ছা জানাতে রাজভবনে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সন্ধে ৬টা নাগাদ রাজভবনে পৌঁছন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগমন ঘিরে আগে থেকেই তৈরি ছিল রাজভবন। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর জন্য চা-মিষ্টিমুখের আয়োজন করেছিলেন বোস। রাজ্যপাল সিভি বোসকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁর হাতে ফুলের স্তবক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যপালও তাঁকে শাল পরিয়ে অভ্যর্থনা জানান।
সাকুল্যে ৪৫ মিনিট রাজভবনে ছিলেন তিনি। পরে বাইরে এসে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানান, “বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলাম। বিজয়ার পর এটা আমাদের সৌজন্য।”
মুখ্যমন্ত্রী যে এদিন রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে যাবেন, দ্য ওয়ালে আগেই সেই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক অতীতে উপাচার্য নিয়োগ হোক বা অর্থ বিলে রাজভবনের সম্মতি, বিভিন্ন বিষয়ে নবান্ন বনাম রাজভবনের সংঘাতের আবহে এদিনের ঘটনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের সফরের মধ্যে দিয়ে দু’তরফের সংঘাতের বরফ গলবে কি না, তা নিয়েও নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
সম্প্রতি উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্যভবনের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সরকারের। এ ব্যাপারে মামলা সুপ্রিম পর্যন্ত গড়িয়েছে। সেই মামলায় হেরে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল। বরং সুপ্রিম কোর্ট তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান ও সাংবিধানিক প্রধানের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। এখানে কোনও ইগো থাকা উচিত নয়। রাজ্যপাল যেন কফির আমন্ত্রণ করে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন।
সুপ্রিম কোর্ট যখন এই পরামর্শ দিয়েছিল, তখন সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রী স্পেন সফরের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত। তার পর স্পেন থেকে ফিরে পায়ের ব্যথায় ভুগেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর আবার পুজো গেছে। শেষমেশ বিজয়ায় দেখা হল মমতা-আনন্দের।
অনেকের মতে, রাজ্যপাল নবান্নের সঙ্গে পুরোদস্তুর রেষারেষিতে নেমে পড়েছেন বলে কারও কারও মনে ধারণা তৈরি হচ্ছে। তিনি যেভাবে পুজো পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন তাতে সেই ধারণা স্পষ্ট হয়। অথচ দেখা গেল, তাতেও রাজভবনের মুখ পুড়েছে। ওই পুরস্কার কেউই নিতে চায়নি।
তবে সম্প্রতি একটি ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সহমত হয়েছেন রাজ্যপাল। বিশ্বভারতীতে ইউনেস্কো হেরিটেজ সাইটের জন্য যে ফলক লাগানো হয়েছে, তাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম না থাকায় সমালোচনা করেছেন বোসও।
পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ বলছেন, এদিন সন্ধেয় মুখ্যমন্ত্রী-রাজ্যপাল বৈঠকে হয়তো আপাত দর্শনে শান্তির পতাকা উড়বে, কিন্তু তা স্থায়ী হবে বলে মনে হয় না। কারণ ইদানীংকালে দেশজুড়ে রাজভবনগুলোর কাজকর্মে রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা দেখা যাচ্ছে। তেমন কোনও উদ্দেশ্য থাকলে সুসম্পর্কের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের আশা করাই বৃথা।