মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ব্যবসাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে কলকাতা ও শিলিগুড়িতে ট্রেড অ্যান্ড এক্সপোর্ট সেক্টরের জন্য আলাদা বিজনেস হাব তৈরি করা হবে।
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 17 December 2025 19:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এআই আসছে, প্রযুক্তিও বাড়ছে, তবে তার জেরে যাতে মানুষের রুজি-রোজগার না যায়, সেই দিকেই বাড়তি নজর দেবে রাজ্য। বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে (Netaji Indoor Stadium) কনফেডারেশন অব ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলনে (Confederation of West Bengal Trade Associations conference) স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Chief Minister Mamata Banerjee)।
তাঁর কথায়, “এআই অপারেশন করছে, সেটা মানছি। কিন্তু হিউম্যান টাচও দরকার। এ আই করতে গিয়ে যেন এমপ্রয়মেন্ট না চলে যায়, এমন কিছু করব না, যাতে মানুষ বে রোজগার হয়ে যায়। তাদের দিকটাও লক্ষ্য রাখতে হবে। পেটের ক্ষুধা বড় ক্ষুধা।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ব্যবসাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে কলকাতা ও শিলিগুড়িতে ট্রেড অ্যান্ড এক্সপোর্ট সেক্টরের জন্য আলাদা বিজনেস হাব তৈরি করা হবে। আগামী দিনে প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের উপর বিশেষ জোর দেবে সরকার। পাশাপাশি, ব্যবসায়িক সমস্যা দ্রুত মেটাতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে একটি ওয়েলফেয়ার বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেন তিনি। সেই বোর্ডে রাজ্যের প্রতিটি জেলার ব্যবসায়িক সংগঠনকে যুক্ত করার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
ব্যবসায়ীদের স্বার্থে এ দিন একটি নতুন পোর্টাল চালু করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, অনেক ক্ষেত্রে সরকার বা বিভিন্ন সংস্থার কাজ শেষ করেও সময়মতো টাকা পান না ব্যবসায়ীরা। ফলে আর্থিক চাপ বাড়ে। এ বার কাজ শেষ হলেই পোর্টালে আপডেট করলেই সংশ্লিষ্ট সংস্থা দ্রুত টাকা দিতে বাধ্য থাকবে। একই সঙ্গে ওই পোর্টালের মাধ্যমে অভিযোগ জানালে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বেঙ্গল হচ্ছে ইন্ডিয়ার কর্মাশিয়াল গেটওয়ে।” রাজ্যে ছ’টি ইকোনমিক করিডর তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি। সেই করিডরগুলি চালু হলে রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলেই তাঁর দাবি। মুখ্যমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের এমএসএমই সেক্টরে রয়েছে ৯৩ লক্ষ ইউনিট, যেখানে কাজ করেন প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আরও ১৫ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী।
কেন্দ্রের কাছ থেকে রাজ্যের প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা প্রাপ্য বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “আমাদের নামে শুধু বদনাম করা হয়। কিন্তু বহু বঞ্চনার মধ্যেও আমরা ৪০ শতাংশ বেকারত্ব কমিয়েছি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ তথ্য রাজ্য সরকারের নয়, নীতি আয়োগের রিপোর্টেই উল্লেখ রয়েছে।
মনে করিয়েছেন, বাম আমলে বছরে কথায় কথায় বনধ হোত। তাঁর রাজত্বে বনধ কালচারের সেই বদনাম ঘুচেছে। মনে করিয়েছেন, "আমরা আসার আগে ৭৫ লক্ষ কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে। এখন একদিনও নষ্ট হয় না বনধে বন্ধ করে দিয়েছি।"
এক্সপোর্ট নিয়েও আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী। জানান, রাজ্যের রপ্তানি বেড়ে ছাড়িয়েছে ১ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকা। গত ১৪ বছরে রেজিস্টার্ড সংস্থার সংখ্যাও বেড়েছে প্রায় আড়াই লক্ষ। পাশাপাশি, অসংগঠিত শিল্পে ৬০ থেকে ৬৫ লক্ষ ছোট-বড় ব্যবসায়ী যুক্ত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
নোটবন্দি প্রসঙ্গে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “নোটবন্দি করে দেশের টাকা বাড়েনি। মানুষের হাতে টাকা থাকলেই অর্থনীতি চাঙ্গা হয়।” নিজের উদাহরণ দিয়ে বলেন, তাঁর নিজেরও ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড নেই।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২৩ টা জেলায় ২৩ টা শপিং মল করা হচ্ছে। তারমধ্যে আগামিকাল ১০টার উদ্বোধন করা হবে। এরপরই ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, " বাকি ১৩টা আপনারা দেখুন না যদি আপনারা করতে পারেন, জমি সরকার দিচ্ছে। শুধু একটা অনুরোধ যে শপিং মল করবেন তার দুটো তল MSME সেক্টরের জন্য বরাদ্দ করবেন, বাকি অংশে আপনারা আপনাদের ইচ্ছামত করুন।"
উদ্যোক্তাদের দাবি, এ দিনের অনুষ্ঠানে রাজ্যের ছোট, মাঝারি ও বড় মিলিয়ে প্রায় ১২ হাজার ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের শুরুতেই গ্যালারির একাংশে মাইকের বিভ্রাট দেখা দেয়। সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে বিষয়টি ‘টেক কেয়ার’ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ দিকে, এ দিনের অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্কও কম হয়নি। সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের জলের বোতল ও ব্যাগ নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পুলিশের দাবি, শুধুমাত্র নিরাপত্তার কারণেই এই কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এমন বিধিনিষেধ নজিরবিহীন বলেই মনে করছে একাংশ।