একই সঙ্গে প্রায় আড়াই হাজার একর জমিতে ২৫ হাজার কোটির বেশি বিনিয়োগ করতে চলেছে ১০টি শিল্প সংস্থা। এর ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৭০ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 14 May 2025 18:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্প্রতি বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলন (BGBS) থেকে বাংলায় শিল্প স্থাপন (Industry) করতে চেয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে বলে আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তারপর শালবনিতে উদ্বোধন হয়েছে জিন্দলদের বিদ্যুৎ প্রকল্পের। এবার অদূর ভবিষ্যতে কলকাতার নিউটাউনে গড়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের পার্ক 'বিশ্ব অঙ্গন' (IITEC park)।
একই সঙ্গে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় আড়াই হাজার একর জমিতে ২৫ হাজার কোটির বেশি বিনিয়োগ করতে চলেছে ১০টি শিল্প সংস্থা। এর ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৭০ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। বুধবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে একথা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দ্রুত শিল্পায়নের লক্ষ্য আমাদের রয়েছে। বিজিবিএস এর পর বেশ কিছু শিল্প সংস্থার জন্য জমি আমরা ছেড়ে দিয়েছি। আজকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে জঙ্গল সুন্দরী কর্ম নগরী, দুর্গাপুর, বর্ধমানের পানাগর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে দশটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্লট বিভিন্ন কোম্পানিকে বরাদ্দ করা হয়েছে। মোট জমির পরিমাণ ২,৫১৫ একর। মোট বিনিয়োগ ২৫ হাজার কোটির বেশি। সরাসরি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান হবে ৭০ হাজারের বেশি মানুষের। এগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই স্টিল ইন্ডাস্ট্রি বা ইস্পাত শিল্প।
একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা শুনলে খুশি হবেন কলকাতাতেও এবার ইন্টারন্যাশনাল ইনফরমেশন টেকনোলজি এন্টারটেইনমেন্ট এন্ড কালচারাল পার্ক (IITEC park) তৈরি হচ্ছে। এর বাংলা নাম হবে বিশ্ব অঙ্গন। হিডকোর সঙ্গে পিপিপি মডেলে নিউটাউনে প্রায় ২৫ একর জমিতে গড়ে উঠবে এই বিশ্বমানের পার্ক।
এছাড়াও বাংলায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করার জন্য পনেরোটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে কয়েকশো কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে আমাদের রাজ্যে ৯০ লক্ষ ইউনিটে প্রায় এক কোটির বেশি মানুষ কাজ করে। আগামী দিনে এই সেক্টরে আরও উন্নতি হবে।
স্বসহায়ক গোষ্ঠীগুলির আয় বাড়াতে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় একটি করে অত্যাধুনিক মল তৈরির ঘোষণা আগেই করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এক টাকার বিনিময়ে বেসরকারি সংস্থাকে জমি দিচ্ছে সরকার। শর্ত হিসেবে সরকারের তরফে বলা হয়েছে, প্রতিটি মলে দুটি করে ফ্লোর স্বসহায়ক গোষ্ঠীকে দিতে হবে।
এদিন নবান্নের বৈঠকে ২৩টি জেলার মধ্যে ১১ টা জেলায় মল তৈরির জন্য জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। এগুলি হল- পুরুলিয়া, দার্জিলিং, বাঁকুড়া, কোচবিহার, হাওড়া, জলপাইগুড়ি, ঝাড়গ্রাম, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম মেদিনীপুর ও উত্তর দিনাজপুর জেলায়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজারহাট ও িঘায় যেমন কনভেনশন সেন্টার রয়েছে তেমন একটি কনভেনশন সেন্টার এবার তৈরি করা হবে শিলিগুড়িতেও।