.jpeg)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 26 November 2024 19:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাম কা ওয়াস্তে শুধু পানীয় জলের পাইপ লাইন বসালেই হবে না। প্রতিটি বাড়িতে যেন জল পৌঁছয়, সেটাও দেখতে হবে প্রশাসনকে। এটা প্রশাসনের দায়বদ্ধতার মধ্যে পড়ে। বক্তা, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজের হাল হকিকত খতিয়ে দেখতে এদিন নবান্নে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের কর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থও। সেখানেই কাজের রিভিউ খতিয়ে দেখতে গিয়ে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
বৈঠকে পিএইচই-র কর্তাদের উদ্দেশে মমতা বলেন, বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছতে প্রশাসন দায়বদ্ধ। পাইপ যাওয়া মানেই জল সরবরাহ নয়। যে সব বাড়িতে জলের পাইপ লাইন গিয়েছে সেখানে সত্যি জল পড়ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কানেকশনগুলি রি-চেক করারও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসন সূত্রের খবর, ২০২৫ সালের এপ্রিলের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছানোর টার্গেট রয়েছে রাজ্যের। সব মিলিয়ে ১ কোটি ৭৭ লক্ষ বাড়িতে জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার কথা। ইতিমধ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাজ্যজুড়ে সেই কাজও চলছে। পিএইচই-র দাবি ইতিমধ্যে ৯০ শতাংশ বাড়িতে সংযোগ পৌঁছে গেছে। যদিও তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
জেলায় জেলায় বেশ কিছু এলাকায় পাইপ লাইন পৌঁছলেও তা থেকে জল পড়ছে না বলে অভিযোগ। বিষয়টি জানতে পারার পরই এদিন জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের কর্তাদের নিয়ে নবান্নে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই সংশ্লিষ্ট দফতরের কাজে উষ্মা প্রকাশ করে পুরো বিষয়টি মুখ্যসচিবকে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন তিনি। জলের সংযোগ পুনরায় রি-চেক করার নির্দেশও দেন।
বেশ কিছু জায়গায় পাইপ লাইনের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারে যদি পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুরো বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের ডিজিকে। জলের পাইপ লাইনের জন্য নতুন গাইড লাইন তৈরির নির্দেশও দিয়েছেন।
পিএইচই দফতরে ইঞ্জিনিয়রের অভাব থাকলে প্রয়োজনে চুক্তিভিত্তিতে ইঞ্জিনিয়র নিয়োগের কথাও বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সরকারি পদ্ধতি মেনে লোক নিতে গেলে ১ বছর লেগে যাবে। ততদিন কি মানুষ জল পাবে না। তাই প্রয়োজনে চুক্তিতে ইঞ্জিনিয়র নিয়োগ করতে হবে।
পাইপ লাইনের কাজে কোনও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কাজে গাফিলতির অভিযোগ উঠলে তার বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। একই সঙ্গে কলকাতা-সহ জেলায় জেলায় কলের মুখ খোলা রেখে জল নষ্ট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। মমতা বলেন, কোথাও কোথাও কলের মুখ খোলা থাকে। অনবরত জল পড়তে দেখা যায়। অনেকে কলের মুখ খুলে নিয়ে পালান। এ ব্যাপারে বিকল্প কী করা যায়, সেটা দেখতে হবে।