দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার সকালেই জামিন পেয়েছেন কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম। তার কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁকে বিদ্রুপ করে টুইটারে পোস্ট করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্র। তিনি লিখেছেন, ‘জামিন পাওয়া নেতাদের সম্মানিত ক্লাবে’ চিদম্বরমকে স্বাগত। এরপরে তিনি কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী, প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও আরও কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করেন। তাঁরা সকলেই নানা মামলায় জামিন পেয়ে এখন জেলের বাইরে আছেন।
চিদম্বরম জামিন পাওয়ার পরেই কংগ্রেস টুইট করে বলেন, ‘অবশেষে সত্যের জয় হল।’ সম্বিত পাত্র ওই লেখাটি রিটুইট করেন। তার নীচে লেখেন, কংগ্রেস দুর্নীতিকে সেলিব্রেট করছে। কংগ্রেসের জামিন পাওয়া নেতাদের সম্পর্কে তিনি লেখেন, তাঁরা সকলে ‘ওওবিসি’-র সদস্য। ওওবিসি মানে আউট অন বেল ক্লাব। সেই ‘ক্লাবের’ সদস্য হিসাবে সনিয়া ও রাহুল বাদে তিনি কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর স্বামী রবার্ট বঢরা, কংগ্রেস নেতা মতিলাল ভোরা, ভুপিন্দর হুডা এবং শশী তারুরের নাম উল্লেখ করেন।
https://twitter.com/sambitswaraj/status/1202095417585999872
https://twitter.com/sambitswaraj/status/1202097549890461696
৭৪ বছর বয়সী চিদম্বরম ১০০ দিনের বেশি জেলে কাটিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আর ভানুমতির নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ তাঁকে জামিন দেয়। এর আগে দিল্লি হাইকোর্ট চিদম্বরমকে জামিন দিতে অস্বীকার করে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান। এদিন তাঁর জামিনের বিরুদ্ধে সওয়াল করার সময় এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট বলে, অভিযুক্ত ব্যক্তি জেলে থাকা অবস্থাতেই কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর ওপরে প্রভাব খাটিয়েছেন। বিপরীতে চিদম্বরমের পক্ষের কৌঁসুলি সওয়াল করেন, ভিত্তিহীন অভিযোগে কারও কেরিয়ার ও সম্মান নষ্ট করা উচিত নয়।
গত ২১ অগস্ট সিবিআই চিদম্বরমকে গ্রেফতার করে। ওই সংস্থা আইএনএক্স মিডিয়া কেসে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করছিল। অভিযোগ, ২০০৭ সালে অর্থমন্ত্রী থাকার সময় চিদম্বরম আইএনএক্স মিডিয়া নামে এক সংস্থাকে বেআইনিভাবে বিদেশি বিনিয়োগ পাইয়ে দেন। এরপরে টাকা তছরুপের মামলায় ইডি তাঁকে গ্রেফতার করে ১৬ অক্টোবর।
সিবিআই এবং ইডি বার বার তাঁর জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করে বলেছে, টাকা তছরুপ করা খুব গুরুতর অপরাধ। তাতে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হয়। চালু ব্যবস্থাটার প্রতি মানুষের বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়। চিদম্বরমের হয়ে সওয়াল করেন কপিল সিব্বল ও অভিষেক মনু সিংভি। তাঁরা বলেন, চিদম্বরম টাকা তছরুপ করেছেন বলে প্রমাণ নেই। তিনি সাক্ষীদেরও প্রভাবিত করেননি।