
শেষ আপডেট: 18 September 2020 18:30
এমন শিক্ষকের দেখা মিলবে ছত্তীসগড়ের কোরিয়া জেলায়। নাম রুদ্র রানা। জেলায় রুদ্র স্যর নামেই এখন পরিচিতি তাঁর। দিন থেকে রাত ছুটে চলেছেন রুদ্র স্যর। জেলার একটি মহল্লার বাচ্চারও যাতে পড়াশোনায় ক্ষতি না হয় সে গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন শিক্ষক।
“গ্রামের অনেক বাচ্চাই অনলাইন ক্লাস কী বোঝে না। মোবাইল নেই অনেকের কাছেই। কম্পিউটার তো দূরের কথা। লকডাউনের এত দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ। বাচ্চাদের পড়াশোনাও একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। তাই ঘরে ঘরে গিয়ে আমি পড়িয়ে আসছি। এখন এটাই আমার দায়িত্ব,” বলেছেন শিক্ষক রুদ্র রানা। বাচ্চাদের থেকে একটা পয়সাও নেন না। বরং তাদের বইখাতা কিনে দেওয়ার দায়িত্বও তাঁর।
পড়াশোনাতেও নতুনত্ব এনেছেন শিক্ষক। বলেছেন, গ্রামের বাচ্চারা মিড ডে মিলের লোভেই স্কুলে যায়। এখন সেটা বন্ধ। তাই পড়ানোর পাশাপাশি বাচ্চাদের খাবার, লজেন্স এসব দিয়েও ভুলিয়ে রাখেন তিনি।
রুদ্র স্যর বলেছেন, “রঙবেরঙের বই দেখে বাচ্চারা পড়াশোনায় আগ্রহ পায়। নানা রকম ছবি দেখিয়ে তাদের বাস্তব জীবনের সঙ্গে পরিচয় করাই আমি। শিশুদের যেন মনে না হয় পড়াশোনা আতঙ্কের ব্যাপার। বরং ভালবেসে যাতে শিক্ষায় আগ্রহী করে তোলা যায় সেই চেষ্টাই করে চলেছি। “
ছত্তীসগড়ের প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে এখনও শিক্ষার আলো সেভাবে জ্বলেনি। কৈশোর পার হলেই রোজগারের ধান্দায় বেরিয়ে পড়ে ছেলেরা। অনেক গ্রামেই মেয়েরা সেভাবে শিক্ষার সুযোগ পায় না। অভাব এতটাই যে পড়াশোনার থেকে দু’বেলা খাবার জোগাড় করাই তাদের লক্ষ্য। রুদ্র রানা বলেছেন, শিক্ষা না থাকায় মহাজনদের কাছে ঠকতে হয় বেশিরভাগ সময়েই। ঠিকা শ্রমিকও কাজ করে তার ন্যায্য পাওনা পান না। তাই এই সব গ্রামের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলা খুব দরকারি। শিক্ষার আলো না থাকলে কুসংস্কারের অন্ধকারে ছেয়ে যাবে গ্রামের পর গ্রাম। দেশের ভবিষ্যতের জন্য যা মোটেও ভাল কথা নয়।