
শেষ আপডেট: 4 August 2019 18:30
রকমারি ইডলি সাজিয়ে চেন্নাইয়ের ইডলি-ম্যান এনিয়াভান[/caption]
দক্ষিণী ডেলিকেসির মধ্যে নেহাতই প্রাতরাশের তকমা সাঁটা কম মশলাদার এই খাবারকে যে আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেটা ভালোভাবেই প্রমাণ করে দিয়েছেন ‘ইডলি-এনিয়াভান।’ তবে শুরুটা এমন ছিল না। সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল অভাব। ক্লাস এইট পাস এনিয়াভানের কাছে লড়াইটা খুব একটা সহজ ছিল না।

ইডলির প্রতি অনুরাগ জন্মায় এক মহিলা যাত্রীর লড়াই দেখে। নাম চন্দ্রা। প্রায় প্রতিদিনই এনিয়াভানের অটোতে চেপে নিজের গন্তব্যে যেতেন চন্দ্রা। হাতে থাকত ইডলির বড় ক্যান। চন্দ্রা শুনিয়েছিলেন কী ভাবে ইডলি আর সম্বর ডাল বাড়ি বাড়ি বেচেই সংসার চালান তিনি। রাঁধতে বরাবরই ভালোবাসতেন এনিয়াভান। চন্দ্রার জার্নি মুগ্ধ করে তাঁকে। ইডলি-সম্বরের রেসিপি জেনে নিয়েছিলেন চন্দ্রার কাছ থেকেই। খরিদ্দারদের পছন্দ কেমন, সেটাও শুনে নিয়েছিলেন মন দিয়ে। এর পরই শুরু হয় এক অন্য লড়াই।

মিকি মাউস ইডলি, চকোলেট ইডলি থেকে কাপ-ইডলি। এনিয়াভানের রেসিপিতে রোজই থাকে নতুন নতুন চমক।
ক্ষতি হলো অনেক টাকার। তবে হাল ছাড়লেন না এনিয়াভান। জানিয়েছেন, একই রকম সাদা ইডলিতে মানুষ রুচি হারিয়েছিল। একই ফোড়নের সম্বর ডাল আর মিহি চাল-ডাল-মেথি বাটার ইডলি বিশেষ পছন্দ ছিল না স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদেরও। তরুণ মনে তখন পিৎজা-বার্গারের নেশা। তাই ঠিক করলেন ইডলিই বানাবেন, তবে রেসিপিতে আনবেন চমক। যা কেউ দেখেনি, কেউ চাখেনি, এমন কিছু।
[caption id="attachment_129905" align="aligncenter" width="640"]
ইডলিকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন এনিয়াভান।[/caption]
শুরু হলো এক্সপেরিমেন্ট। প্রথম বদলটা হলো রঙে। যা দেখেই চোখ আর পেট একই সঙ্গে বলবে, তোফা! হলদে-সবুজ, বা রামধনু রঙা ইডলি, কখনও কচি পাতার রঙে ছাঁচে ফেলে ইডলি বিশেষ পছন্দ করতে শুরু করলেন খদ্দেররা। এর পর এল স্বাদ ও আকারে বদল। কখনও চকোলেট সস ঢেলে ইডলি হলো হার্ট-শেপের, আবার কখনও কমলালেবুর রস মাখিয়ে মিকি মাউসের ছাঁচে ফেলে ইডলি হলো অনবদ্য। কুংফু পান্ডার মুখের আদলের ইডলি বেশ পছন্দ করলেন বাইক হাঁকিয়ে আসা স্মার্ট তরুণরা। একটু বয়স্করা অর্ডার দিলেন নারকেলের জলে বানানো সবজি ভরা খুশবু ইডলি। স্কুল পড়ুয়াদের আবার পছন্দ চটপটে পিৎজা-ইডলি। কাপ কেকের মতো পেস্তা-কাজু ছড়ানো ইডলি পাতে পড়তেই শেষ। দোকান চলতে লাগল রমরম করে। লম্বা লাইন লাগল দোকানের সামনে।
বিশ্ব রেকর্ড করার আগে পরিবারের সঙ্গে এনিয়াভান। চলছে ১২৫ কেজি ইডলি বানানোর লড়াই।[/caption]
এর পরের জার্নিটা আরও চমকের। এনিয়াভান জানিয়েছেন, বিশ্ব রেকর্ড করার পরে ইডলি নিয়ে তাঁর চিন্তা ভাবনাটা আরও বেড়ে যায়। বিভিন্ন বয়সের মানুষের পছন্দের কথা মাথায় রেখে একের পর এক রেসিপি তৈরি করতে শুরু করেন তিনি। বর্তমানে সেটা দু’হাজারে দাঁড়িয়েছে। আগামী দিনে সংখ্যাটা আরও বাড়বে। তাঁর ইডলি-প্রীতির কথা পৌঁছে গেছে আমেরিকাতেও। এই লড়াইকে স্বাগত জানিয়েছে আমেরিকার একটি ইউনিভার্সিটি। ক্লাস এইট পাস সত্ত্বেও তাঁর এক্সপেরিমেন্ট ও একাগ্রতা দেখে এনিয়াভানকে ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে ওই ইউনিভার্সিটি থেকে।
[caption id="attachment_129907" align="aligncenter" width="520"]
ইডলি ফেস্টিভালে এনিয়াভানের রাঁধা হরেক কিসিমের ইডলি।[/caption]
‘‘সাধারণ জল নয়, সব ইডলিই তৈরি হয় নারকেলের জল থেকে। এটা শিখেছিলাম আমার ঠাকুমাকে দেখে। তাই হয়তো আমার বানানো ইডলির স্বাদ অন্যরকম,’’ বলেছেন ‘ইডলি-এনিয়াভান’। তাঁর এক্সপেরিমেন্ট এখনও থামেনি। গোপনে জানিয়েছেন, সংখ্যাটা দু’হাজার ছাপিয়ে গেছে। খুব তাড়াতাড়ি নতুন মোড়কে ইডলিতে বিপ্লব আনতে চলেছেন তিনি। চেখে দেখবেন নাকি?
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/national-news-behind-the-camera-meet-telanganas-fiery-dalit-women-fighting-all-odds-to-save-environment/