দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্যায় তিনি সহ্য করতে পারতেন না। নিজের এলাকায় কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেখলেই হাজির হয়ে যেতেন ৪৫-এর জেবাসেলান। অটো চালিয়েই রোজগার। অভাবের সংসার হলেও সমাজসেবাতে কার্পণ্য করেননি কোনও দিন। সম্প্রতি এক নাবালিকা বিয়ে রুখেও পুলিশ-প্রশাসনের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। তবে তারই খেসারত দিতে হলো নিজের প্রাণ দিয়ে। একমাত্র মেয়ের বিয়ের রিসেপশনের দিনই তাঁকে কুপিয়ে খুন করলো দুষ্কৃতীরা।
ঘটনা রবিবারের। চেন্নাইয়ের আয়ানাভারাম এলাকার বাসিন্দা জেবাসেলান নিজের মেয়ের রিসেপশনে যাচ্ছিলেন ভ্যানে চেপে। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী প্রিশ্চিলা ও অন্য আত্মীয়েরা। সন্ধে সাড়ে সাতটা নাগাদ রাজীব গান্ধী নগরের কাছে তাঁদের ভ্যান ঘিরে ধরে জনা ছয় যুবক। জেবাসেলানকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে কোপাতে শুরু করে তারা। স্বামীকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন প্রিশ্চিলা। তাঁকেও ছুরির কোপ মেরে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। রক্তাক্ত জেবাসেলানকে উদ্ধার করে স্ট্যানলে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করেন স্থানীয়েরা। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।
পুলিশ জানিয়েছে, নানা সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জেবাসেলান। স্থানীয় অটো ড্রাইভার অ্যাসোসিয়েশনের মাথাও ছিলেন তিনি। এক সপ্তাহ আগে খবর পেয়ে নিজের এলাকারই এক নাবালিকার বিয়ে রুখেছিলেন। বিনোদ নামে একটি ছেলের সঙ্গে সেই মেয়ের বিয়ের ঠিক হয়েছিল। জেবাসেলান তাঁর কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে গিয়ে বিনোদকে বোঝান নাবালিকা বিয়ে আইন বিরুদ্ধ, এর জন্য জেল হতে পারে। তবে বিনোদ সে কথায় বিশেষ পাত্তা দিতে চায়নি। বিয়ের তোড়জোড় শুরু করে দেয়। মেয়ের পরিবারকে বুঝিয়েও যখন কোনও লাভ হয়নি তখন জেবাসেলান পুলিশের দ্বারস্থ হন। আইনের সাহায্য নিয়েই বিয়ে আটকান।
তদন্তকারীদের কথায়, সেই রাগ থেকেই প্রতিশোধের পথ খুঁজছিল বিনোদ। শুক্রবার তিরুপতিতে জেবাসেলানের মেয়ের বিয়ে হয়, এই খবর সে পেয়েছিল। রিসেপশনের দিন রবিবার সেটাও জানত। নিজের কয়েকজন শাগরেদ জুটিয়ে ওই সন্ধে থেকেই জেবাসেলানের পিছু নিয়েছিল বিনোদ ও তার দলবল। নির্জন জায়গা দেখে তারা চড়াও হয় তাঁর উপর। অপরাধীদের পাকড়াও করে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।