
শেষ আপডেট: 29 April 2023 03:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আদর করে নিয়ে গেলেই তো হল না, তার যত্নও করতে হয়--ভারতে পরপর চিতা মৃত্যু (Cheetah Death) নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাণীবিদদের বক্তব্য, আফ্রিকান চিতাদের (Cheetah) থাকার বিশেষ পরিবেশ আছে, ভারতে তা নেই। দক্ষিণ আফ্রিকার বন, মৎস্য ও পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, যে আটটি চিতাকে কুনোর সংরক্ষিত অরণ্যে রাখা হয়েছে তারা ভাল নেই। কারণ তাদের থাকার মতো পরিবেশই দেওয়া হয়নি।
দক্ষিণ আফ্রিকার নামিবিয়া থেকে ২০টি চিতাবাঘ এ দেশে এনেছিল মোদী সরকার। মধ্যপ্রদেশের কুনো অরণ্যে রাখা হয়েছিল তাদের। তাদের মধ্যে দু'টি চিতারই ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে অসুখে ভুগে। এই ঘটনায় এবার কড়া বার্তা দিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সে দেশের পরিবেশ দফতর এ বিষয়ে রিপোর্ট দিতে গিয়ে ভর্ৎসনার সুরে বলল, 'এমনটা তো হওয়ারই ছিল!'
কুনো জাতীয় উদ্যানে দুটি চিতার মৃত্যু হয়েছে এর মধ্যেই। একটি ঘরছাড়া, ভবঘুরে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফিরতেই চাইছে না। আফ্রিকান চিতাদের এমন মতিগতি দেখে চিন্তায় পড়েছে বন দফতর। ভবঘুরে চিতা উবানকে কিছুতেই ফেরানো যাচ্ছে না। সে আবার এমন জঙ্গলে ঢুকে পড়েছে যেখানে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার আছে। কাজেই তার প্রাণ সংশয়ের ঝুঁকিও আছে। এদিকে মৃত দুই চিতার ময়নাতদন্তের রিপোর্টও চমকে দিয়েছে। নামিবিয়া থেকে আসা ৬ বছরের উদয়ের মৃত্যু হয়েছে হার্ট অ্যাটাকে। তার আবার বটুলিজম নামক মারাত্মক সংক্রমণ হয়েছিল। ৫ বছরের সাসা মরেছে কিডনি ফেলিওরে। পরপর চিতা মৃত্যু ভাবিয়ে তুলেছে বন আধিকারিকদের।
চিতার হার্ট অ্যাটাক! শরীরে বিষক্রিয়া, তারপরেই পঙ্গু, কী বিরল অসুখে ভুগছিল কুনোর উদয়
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে রীতিমতো ঢাকঢোল বাজিয়ে বিশেষ বিমানে চাপিয়ে চিতাদের নিয়ে গিয়েছিল ভারত। উদ্দেশ্য ছিল চিতাহীন দেশে নতুন করে এই প্রজাতির সংরক্ষণ করা। প্রায় ৭৪ বছর পরে চিতা দেশে ফিরে আসায় আনন্দও কিছু কম ছিল না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজের হাতে চিতা ছেড়েছিলেন কুনোর জাতীয় উদ্যানে। কিন্তু ছন্দপতন হয় কিছুদিনেই। চিতারা অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করায় উদ্বেগ বাড়ে।
কুনো থেকে বার বার পালাচ্ছে 'দুষ্টু' চিতা ওবান, এবার বাঘের ডেরায় গিয়ে ঢুকেছে, চিন্তায় বন দফতর
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাণীবিদরা বলছেন, আফ্রিকান চিতা এইভাবে থাকে না। তাদের বিচরণের জন্য অনেক বড় খোলা জায়গা লাগে। কুনোর জাতীয় উদ্যানে সেই ব্যবস্থা নেই। তাদের খোলামেলা জায়গায় ছাড়তে হবে, হাতের কাছে যাতে শিকার থাকে তা দেখতে হবে। আফ্রিকায় যখন চিতারা ছিল তখন তাদের জন্য বিশাল বড় জায়গা রাখা হয়েছিল। প্রতিদিন দু'বার করে গিয়ে দেখে আসা হত চিতাদের। তারা কী খাচ্ছে, কখন খাচ্ছে, শরীর ঠিক আছে কিনা এইসব খতিয়ে দেখা হত দিনে কম করেও দু'বার।
দূর থেকে বনকর্মীরা নজরে রাখতেন চিতাদের, পশুবিদরাও থাকতেন তাঁদের সঙ্গে। কোনও চিতার আচরণে বিন্দুমাত্র অস্বাভাবিকতা দেখলে তাকে এনে চিকিৎসা করা হত। যেহেতু তারা বন্যপ্রাণী তাই সেই মতোই তাদের থাকার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। ভারতে যেখানে চিতাদের রাখা হয়েছে সেখানে এমন পরিবেশ নেই। কীভাবে একটা সংরক্ষিত অরণ্য থেকে চিতা পালিয়ে লোকালয় ঢুকে পড়তে পারে সেটাই আশ্চর্যের। তাছাড়া চিতাদের দেখাশোনাও ঠিক মতো হয়নি বলে অভিযোগ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাণীবিদদের।
শুধু তাই নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার বন, মৎস্য ও পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, চিতার মৃত্যু আরও বাড়তে পারে। তাদের আঘাত লাগার সম্ভাবনাও বেশি। নিয়মিত দেখাশোনা না করলে চিতাদের ওই পরিবেশে রাখাও বিপজ্জনক।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকার রিপোর্টের আগেই আফ্রিকা থেকে কুনোয় চিতা আমদানির কর্মসূচি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন এদেশেরই বন্যপ্রাণ বিজ্ঞানী যাদবেন্দ্রনাথ ঝালা। মোদী সরকারের ‘ন্যাশনাল চিতা অ্যাকশন প্ল্যান’-এ তিনি প্রথমে ছিলেন, পরে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, আফ্রিকা থেকে ৫০টি চিতা আনার যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা অনেক দূরের কথা, মধ্যপ্রদেশের কুনো উদ্যানে ২০টিরও ঠাঁই হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
কেন এমন সংকটে পড়েছে চিতারা?
তথ্য বলছে, আফ্রিকার চিতাদের খাদ্য হিসাবে কুনোয় প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩৮টি চিতল হরিণ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কুনোয় ১৫টির বেশি চিতা থাকা ঠিক নয়। মধ্যপ্রদেশের অন্য দুই অভয়ারণ্য গান্ধীসাগর এবং নওরাদেহিতে চিতাদের বিকল্প বাসস্থান গড়ে তোলার প্রস্তাব আছে এই কারণে, তবে তা এখনই সম্ভব হবে না, সময় লাগবে। আর এতে খরচও বাড়বে আরও অন্তত ৭৫০ কোটি টাকা।
যেন বলিউডের ‘বাঙালি কবি’ই ছিলেন ইরফান খান! ভালবাসতেন মাছের ঝোল, কচুর লতি