
শেষ আপডেট: 24 May 2023 06:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের কুনোয় একের পর এক চিতার (Cheetah) মৃত্যু হচ্ছে। গত দেড় মাসের মধ্যে এই নিয়ে সেখানে চতুর্থ চিতা মারা গেল। কুনো জাতীয় উদ্যানের তরফে জানানো হয়েছে, এবার একটি চিতা শাবকরে মৃত্যু হয়েছে। জন্মেই মারা গেছে শাবকটি। অসুস্থ আরও তিন চিতা শাবক।
মধ্যপ্রদেশ বন দফতর সূত্রের খবর, নামিবিয়া থেকে আনা একটি মহিলা চিতা যে ৪টি শাবকের জন্ম দিয়েছিল, তারই ১টি মারা গেছে। মৃত্যুর কারণ হিসাবে প্রাথমিক ভাবে শারীরিক দুর্বলতাকে চিহ্নিত করেছেন চিকিৎসকেরা। পশু চিকিৎসকের দাবি, মারাত্মক ডিহাইড্রেশনে ভুগছিল শাবকটি। তাতেই মৃত্যু হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার নামিবিয়া থেকে ২০টি চিতাবাঘ এ দেশে এনেছিল মোদী সরকার। মধ্যপ্রদেশের কুনো অরণ্যে রাখা হয়েছিল তাদের। তাদের মধ্যে দু'টি চিতার ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে অসুখে ভুগে। ফিন্ডা নামে একটি পুরুষ চিতার আক্রমণে মৃত্যু হয়েছে। নামিবিয়া থেকে আনা ৫ বছরের স্ত্রী চিতা শাসার। ২৪ এপ্রিল মারা যায় দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা পুরুষ চিতা উদয়। বন দফতরের পশু চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ জানিয়েছিলেন, কুনোর এই চিতার মৃত্যুর কারণ, কার্ডিয়ো পালমোনারি ফেলিওর।
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে রীতিমতো ঢাকঢোল বাজিয়ে বিশেষ বিমানে চাপিয়ে চিতাদের নিয়ে গিয়েছিল ভারত। উদ্দেশ্য ছিল চিতাহীন দেশে নতুন করে এই প্রজাতির সংরক্ষণ করা। প্রায় ৭৪ বছর পরে চিতা দেশে ফিরে আসায় আনন্দও কিছু কম ছিল না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজের হাতে চিতা ছেড়েছিলেন কুনোর জাতীয় উদ্যানে। কিন্তু ছন্দপতন হয় কিছুদিনেই। চিতারা অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করায় উদ্বেগ বাড়ে।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাণীবিদরা বলছেন, আফ্রিকান চিতা এইভাবে থাকে না। তাদের বিচরণের জন্য অনেক বড় খোলা জায়গা লাগে। কুনোর জাতীয় উদ্যানে সেই ব্যবস্থা নেই। তাদের খোলামেলা জায়গায় ছাড়তে হবে, হাতের কাছে যাতে শিকার থাকে তা দেখতে হবে। আফ্রিকায় যখন চিতারা ছিল তখন তাদের জন্য বিশাল বড় জায়গা রাখা হয়েছিল। প্রতিদিন দু'বার করে গিয়ে দেখে আসা হত চিতাদের। তারা কী খাচ্ছে, কখন খাচ্ছে, শরীর ঠিক আছে কিনা এইসব খতিয়ে দেখা হত দিনে কম করেও দু'বার।
দূর থেকে বনকর্মীরা নজরে রাখতেন চিতাদের, পশুবিদরাও থাকতেন তাঁদের সঙ্গে। কোনও চিতার আচরণে বিন্দুমাত্র অস্বাভাবিকতা দেখলে তাকে এনে চিকিৎসা করা হত। যেহেতু তারা বন্যপ্রাণী তাই সেই মতোই তাদের থাকার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। ভারতে যেখানে চিতাদের রাখা হয়েছে সেখানে এমন পরিবেশ নেই। কীভাবে একটা সংরক্ষিত অরণ্য থেকে চিতা পালিয়ে লোকালয় ঢুকে পড়তে পারে সেটাই আশ্চর্যের। তাছাড়া চিতাদের দেখাশোনাও ঠিক মতো হচ্ছে না বলে অভিযোগ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাণীবিদদের।