দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিনটা ছিল ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি। ফ্রান্সের রম্য সাময়িকী 'শার্লি এবদো'র অফিসে অতর্কিতে ঢুকে পড়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে দুই ভাই সাইদ এবং শেরিফ কুয়াচি। সাময়িকীর সম্পাদক স্টেফানি শার্বনিয়ার, যিনি শার্ব নামে বেশি পরিচিত ছিলেন, তিনি এবং আরও চারজন কার্টুনিস্ট মারা যান। মোট ১২ জন নিহতের মধ্যে ছিলেন দুজন কলাম লেখক, একজন কপি এডিটর, একজন অতিথি, যিনি একটি বৈঠকে যোগ দিতে প্যারিসের সেই অফিসে গিয়েছিলেন সেই সময়। অফিসের কেয়ারটেকারও মারা যান। মারা যান সম্পাদকের দেহরক্ষী এবং একজন পুলিশ অফিসারও।
এর কয়েক দিনের মাথায় প্যারিসে এই ঘটনা সংক্রান্ত আরও একটি হামলায় নিহত হন আরও পাঁচ জন। গুলিযুদ্ধে খতম হয় কুয়াচি ভ্রাতৃদ্বয়ও। এত বড় ঘটনা ঘটে যাওয়ার কারণ ছিল, 'শার্লি এবদো'-তে প্রকাশিত ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হজরত মহম্মদের একটি ব্যঙ্গচিত্র। ওই ছবিতে মহম্মদকে অবমাননা করা হয়েছে বলে অভিযোগে সরব হয়েছিলেন ইসলামপন্থীরা। তার জেরেই চলে এমন খুনোখুনি। জানা যায়, বন্দুকবাজরা সিরিয়া থেকে এসেছিল, আইএস যোগ ছিল তাদের।
মূল অভিযুক্ত দুই ভাই খতম হলেও, এই ঘটনায় কাঠগড়ায় তোলা হয় ১৪ জনকে। এ বছরের মার্চ মাসে তাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরুর কথা ছিল। তবে করোনা-মহামারীর কারণে তা পিছিয়ে গিয়ে অবশেষে শুরু হল আজ, বুধবার। এই বিচার কাজ নভেম্বর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।
এই বিচার শুরুর ঠিক আগে ফের সে সব বিতর্কিত কার্টুন প্রকাশ করেছে শার্লি এবদো। মোট ১২টি বিতর্কিত কার্টুন দিয়ে তাদের সাম্প্রতিক সংস্করণের প্রচ্ছদ করা হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে কার্টুনিস্ট ক্যাবুর আঁকা বিভিন্ন ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করা হবে। বিতর্কিত মহম্মদের কার্টুন ক্যাবু এঁকেছিলেন, তিনি নিহত হন ওই দিনের হামলায়।
পাঁচটা বছর পরে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা শার্লি এবদো-র। কট্টর ইসলামপন্থী সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতায় ফের তারা অস্ত্র করছে তুলি-কলমকেই। পত্রিকা অফিসের কর্ণধার লরেন রিস জানিয়েছেন, এটাই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রকৃত রাস্তা। বহু দিন ধরেই চেনা পথের বাইরে হেঁটে অন্ধত্বের প্রতিবাদ করেছে শার্লি এবদো। বাকস্বাধীনতার পরাকাষ্ঠা হয়ে উঠেছে তারা। স্বাভাবিক ভাবেই অনেকের কাছেই তাই তারা চক্ষুশূল।
পত্রিকার তরফে এদিন জানানো হয়েছে, ওই ঘটনার পরে অনেকবারই বিতর্কিত সেই মহম্মদের কার্টুন পুনঃপ্রকাশ করার অনুরোধ এসেছিল তাদের দফতরে। এবার তারা মনে করেছে, মামলা শুরুর আগে আরও একবার ধাক্কা দেওয়া প্রয়োজন সন্ত্রাসবাদকে। আর সেটা এভাবেই। তাই নতুন সংস্করণের সম্পাদকীয় পাতায় তারা স্পষ্ট ভাষায় লিখেছে, 'আমরা মাথা নোয়াব না। আমরা হাল ছাড়ব না।'