ভেতরে ফাঁসি, বাইরে থেকে স্লোগান উঠল ভারত মাতা কি জয়! তিহাড় জেল ঘিরে উল্লাসের আবহ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যন্তর-মন্তরের সামনে অসংখ্য মানুষ ভিড় করেছিলেন সেদিন। গলা ফাটিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন নির্ভয়ার সঙ্গে ঘটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে। দেশের মেয়েদের হয়ে গর্জে উঠেছিল সেই ভিড়। নির্ভয়ার বিচারের দাবিতে ও দেশে নারী নিরাপত্তাকে জোরদার করার লড়
শেষ আপডেট: 20 March 2020 04:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যন্তর-মন্তরের সামনে অসংখ্য মানুষ ভিড় করেছিলেন সেদিন। গলা ফাটিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন নির্ভয়ার সঙ্গে ঘটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে। দেশের মেয়েদের হয়ে গর্জে উঠেছিল সেই ভিড়। নির্ভয়ার বিচারের দাবিতে ও দেশে নারী নিরাপত্তাকে জোরদার করার লড়াই সেই ভিড় থেকেই জন্ম নিয়েছিল।
তেমনই এক ভিড় এদিন ভোর রাত থেকে দেখা গেল তিহাড় জেলের বাইরে।
ভেতরে কী হচ্ছে, জানা যাচ্ছে না। কিন্তু বাইরে থেকে জানা যাচ্ছে, বহু প্রতীক্ষিত সেই ফাঁসিটি হয়ে গেছে। প্রায় আট বছর আগে বিরলের মধ্যে বিরলতম অপরাধ করা চার জন ধর্ষক ও খুনি অবশেষে ফাঁসিকাঠে ঝুলেছে। সঙ্গে সঙ্গে যেন উল্লাস ফেটে পড়ল অসংখ্য মানুষের মধ্যে। জাতীয় পতাকা উড়িয়ে স্লোগান উঠল, ভারত মাতাকি জয়! শুক্রবার কাকভোরে তিহাড় জেলের বাইরের ছবিটা ঠিক এমনই।
পূর্ব নির্ধারিত সূচি মেনেই ভোর সাড়ে পাঁচটায় ফাঁসি হয়েছে নির্ভয়া-কাণ্ডের চার অপরাধীর। তার আগে, সাড়ে চারটে থেকেই ভিড় জমতে শুরু করে তিহাড় জেলের বাইরে। জেলের ভিতরে-বাহিরে তখন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা। ভারতের ইতিহাসে কখনও হয়নি, এমন ফাঁসির ঘটনা ঘটতে চলেছে। এমন ফাঁসি হতে চলেছে, যে ফাঁসি এর আগে তিন বার হওয়ার তারিখ চূড়ান্ত হয়েও পিছিয়ে গিয়েছে। ফলে কোনও ফাঁক রাখার অবকাশ ছিল না।
বাইরের ভিড় অবশ্য এসবের তোয়াক্কা করেনি। ফাঁসির খবর আসতেই কেউ কেউ মিষ্টি বিতরণ করতেও শুরু করেন। কেউ আবার স্লোগান তোলে, "ভারতের মেয়ে নির্ভয়া অমর রহে!" ভিড়ে মিশেছিলেন সমাজকর্মী যোগিতা ভায়ানা। হাতে পোস্টার, লেখা: নির্ভয়া বিচার পেল, অন্য কন্যারা এখনও অপেক্ষা করছে। বললেন, "অবশেষে বিচার পেল নির্ভয়া। এটাই আইনের জয়। দেরিতে হলেও জয় এল।"
এই মুহূর্তটার সাক্ষী থাকবেন বলে সুভাষনগর থেকে এসেছেন তরুণী দিব্যা ধাওয়ান। তাঁর কথায়, "ভাল হয়েছে ফাঁসি হয়ে, কিন্তু আরও আগে সময়মতো বিচার পেলে আরও ভাল লাগত।" পশ্চিম দিল্লির বাসিন্দা সানার কথায়, "ফাঁসি দিয়ে কিছু বদলাবে না, জানি। কিন্তু নির্ভয়া যে বিচার পেল, চার ধর্ষকের যে সাজা হল, তাতেই আমরা খুশি।"
২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে দিল্লিতে একটি বাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন প্যারামেডিক্যালের ছাত্রী। সঙ্গে ছিলেন তাঁর এক বন্ধু। চলন্ত বাসে নৃশংস ধর্ষণের শিকার হন তরুণী। তাঁর যোনিতে রড ঢুকিয়ে টেনে বার করে আনা হয় অন্ত্র। প্রবল মারধর করা হয় বন্ধুকেও। চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেওয়া হয় তাঁদের।
দিল্লির হাসপাতালে এবং পরে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে প্রবল লড়াইয়ের পরে ২৯ ডিসেম্বর মারা যান নির্ভয়া। প্রতিবাদের আগুন জ্বলে ওঠে সারা দেশে। ইতিমধ্যেই ধরা পড়েছিল অপরাধীরা। তৈরি হয়েছিল চার্জশিটও। বিচার পেতে গড়িয়ে গেল এতগুলো বছর।
চরম যন্ত্রণায় মারা যাওয়া এবং মারা যাওয়ার আগে পর্যন্ত দাঁতে দাঁত চেপে দোষীদের বর্ণনা দিয়ে যাওয়া তরুণী নির্ভয়া বিচার পেলেন আজ।