
শেষ আপডেট: 5 September 2019 18:30
শেষ প্রহরের সেই অপেক্ষা..
রাত দেড়টা থেকে শুরু হয়েছিল ল্যান্ডারের অবতরণের প্রক্রিয়া।
ধীরে ধীরে গতি কমিয়ে গুটি গুটি পায়ে চাঁদের দিকে এগিয়ে যায় বিক্রম।
ইসরোর মিশন কন্ট্রোল রুমে তখন মাথায় হাত দিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রতীক্ষা করছেন মহাকাশবিজ্ঞানীরা।
অন্তিম ১৫ মিনিটের সেই প্রতীক্ষা ছিল উত্তেজনাপূর্ণ।
চিন্তিত দেখাল ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবনকেও।
উত্তেজনায় উঠে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
https://twitter.com/pib_india/status/1170077870565117952?s=12
• বেঙ্গালুরুর ইসরোর কন্ট্রোল রুমে প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। চাঁদের প্রতি মুহূর্তের খবর পেতে বেঙ্গালুরু ইসরোর টেলিমিটারি ট্র্যাকিং অ্যান্ড কম্যান্ড নেটওয়ার্ক (ISRAC)-এর সঙ্গে অরবিটারের যোগাযোগ করছে পেল্লায় ডিস অ্যান্টেনা।
বেঙ্গালুরুর মিশন কন্ট্রোল রুমে ঢুকেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
দেখুন লাইভ ভিডিও:
https://twitter.com/isro/status/1170056533255700480
• সোয়া ১ টা থেকে শুরু হবে চাঁদে সফট ল্যান্ডিং-এর প্রক্রিয়া। নির্ধারিত সময় রাত ১টা ৫৫ মিনিট থেকে আড়াইটে।
• ল্যান্ডারকে চন্দ্রপৃষ্ঠের ৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে নিয়ে যাবে অবিটার, ফের ধাক্কা মেরে তুলে দেবে ১০০ কিলোমিটারে।
• এই ১০০ কিলোমিটার উচ্চতা থেকে পাখির পালকের মতো ভাসতে ভাসতে নেমে আসবে ল্যান্ডার ‘বিক্রম,’ যাকে মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলছেন ‘সফট ল্যান্ডিং। (Soft Landing)‘
• আগে ঠিক ছিল চাঁদের দক্ষিণ মেরুর ৭০.৯ ডিগ্রি অক্ষাংশের মানজিনাস-সি ও সিম্পেলিয়াস-এন ক্রেটারের মাঝে অবতরণ করানো হবে ল্যান্ডারকে। ইসরো এখন স্থির করেছে, এত কাছে নয়, দক্ষিণ মেরুর আরও সুদূর প্রান্তে, আরও বেশি অজানা জায়গায় নামানো হবে ল্যান্ডারকে। লুনার সারফেস ম্যাপিং-এ সেই জায়গার অবস্থান ৭০.৯ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষরেখা ও ২২.৭ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমার মধ্যে। অর্থাৎ দক্ষিণ মেরুর আরও গহীনে, ৬০০ কিলোমিটার দূরত্বে। (আমেরিকা, রাশিয়া, চিন এই জায়গায় তাদের মহাকাশযান নামাবার দুঃসাহস করেনি)।
• এই সফট ল্যান্ডিং-এর আগের ১৫ মিনিট মনিটরে সতর্ক চোখ রাখবেন মহাকাশবিজ্ঞানীরা। অবতরণের আগে গতিবেগ কমিয়ে আনা হবে সেকেন্ডে ২ মিটার। এর একচুল এ দিক, ও দিক হলে হুড়মুড়িয়ে চাঁদের মাটিতে আছড়ে পড়বে রোভার-সহ বিক্রম।
• সফট ল্যান্ডিং ঠিকঠাক ভাবে করতে হলে ছোট ‘রকেট’ চালাতে হতে পারে ল্যান্ডারকে। ইসরো জানিয়েছে, অবতরণের সময় যদি চাঁদের মাটির ধুলো ওড়ে, তাহলেই বিপদ! সেউ ধূলিকণা যন্ত্রের উপর গিয়ে পড়লে বেতার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ‘ডিপ স্পেস নেওয়ার্ক‘ (DSN)-এর মাধ্যমে তথ্য পাঠাতে পারবে না রোভার ‘প্রজ্ঞান।’
• এই ধুলো ওড়া বন্ধ করতে কী করণীয়? ল্যান্ডারের চারটি ইঞ্জিন এই সময় বন্ধ হয়ে যাবে। শুধুমাত্র সেন্ট্রাল ইঞ্জিন কাজ করবে। তাও সতর্ক ভাবে।
• চাঁদের মাটি ছুঁয়েই অরবিটারে বার্তা পাঠাবে ল্যান্ডার। তার পর কিছু অপেক্ষা। ভোর রাত সাড়ে ৪টে নাগাদ রোভার ‘প্রজ্ঞান’ বেরিয়ে আসবে ল্যান্ডারের পেট থেকে।
•চন্দ্রপৃষ্ঠের ৪০০ মিটার উচ্চতা থেকে ছবি পাঠাবে বিক্রম।
• রোভারের প্রথম কাজ হবে গ্রাউন্ড স্টেশনে বার্তা পাঠানো। তার পর কাজ শুরু করবে। পৃথিবীর সময় ধরে ভোর হলে রোভার ছবি তুলবে চন্দ্রপৃষ্ঠের। তার পর ধীরে ধীরে খনিজ উপাদানের খোঁজ শুরু হবে।
• ‘রোভারে’ দু’টি যন্ত্র রয়েছে। ‘আলফা পার্টিকল এক্স-রে স্পেকট্রোমিটার’ নামে যন্ত্রটি অবতরণস্থলের কাছে চন্দ্রপৃষ্ঠে কী কী উপাদান রয়েছে তা দেখবে। ওই যন্ত্রে কিউরিয়াম নামে তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে এক্স-রে ও আলফা পার্টিকল নির্গত হবে এবং তার মাধ্যমে চন্দ্রপৃষ্ঠের ছবি তুলবে। চাঁদের পাথরের মধ্যে লোহা, ম্যাগনেশিয়াম, সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, টাইটেনিয়ামের মতো খনিজ রয়েছে কি না, তার সন্ধানও করবে সে।
• দ্বিতীয় যন্ত্রটির নাম ‘লেসার ইনডিউসড ব্রেকডাউন স্পেকট্রোস্কোপ’। কাজ অবতরণস্থলের আশপাশে চাঁদের মাটিতে কী উপাদান কত পরিমাণে রয়েছে তা খুঁজে বার করা, তবে প্রথম যন্ত্রের থেকে আলাদা পদ্ধতিতে।
• কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর রোভার নষ্ট হয়ে যাবে। বেঁচে থাকবে অরবিটার। তার মেয়াদকাল এক বছর। তা ছাড়া চাঁদের মাটি থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে ঘুরতে থাকা স্যাটেলাইট ক্রমাগত চাঁদের পিঠের ছবি তুলে পৃথিবীতে পাঠাবে।