
শেষ আপডেট: 7 February 2024 16:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: পরীক্ষার ভয়ে ঘরছাড়া দুই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে আজমেঢ় শরীফ থেকে উদ্ধার করে আনল রিষড়া থানার পুলিশ। ২৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় রিষড়ার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের আর এন শা রোডের বাসিন্দা দুই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী পড়তে যাবে বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। তবে বন্ধুদের জানিয়েছিল, জেরক্স করতে যাচ্ছে। তারপর থেকেই আর খোঁজ মিলছিল না তাঁদের। ওইদিন রাত সাড়ে দশটা নাগাদ ছাত্রীরা বাড়িতে ফোন করে জানায়, তারা বিপদে আছে। এরপরই ফোন বন্ধ হয়ে যায় তাদের। রাতেই ছাত্রীর পরিবার রিষড়া থানার দ্বারস্থ হয়।
সঙ্গে সঙ্গে রিষড়া থানার পুলিশ ছাত্রীদের ছবি দিয়ে অন্য থানাকে সতর্ক করে। জিআরপিকেও বার্তা পাঠানো হয়। ছাত্রীদের মোবাইলের শেষ টাওয়ার লোকেশন বর্ধমান দেখানোয় পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান পুলিশের কন্ট্রোল রুমেও জানানো হয়। চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার নিজে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর করেন। পরদিন জানা যায় রাজস্থানের আজমেঢ় শরীফে রয়েছেন দুই ছাত্রী। সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে চন্দননগর পুলিশ। বার্তা পেয়েই দুই ছাত্রীকে উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় রাখে আজমেঢ় শরীফ থানার পুলিশ। খবর পেয়ে রিষড়া থানা থেকে একটি টিম রওনা হয় আজমেঢ় শরীফ। মঙ্গলবার দুই কিশোরীকে নিয়ে ফিরে আসে চুঁচুড়া থানার পুলিশ। বুধবার আদালতে তোলা হলে দুই ছাত্রীকে উত্তরপাড়া হোমে পাঠানো হয়।
চন্দননগর পুলিশ কমিশনার অমিত পি জাভালগি জানান, দুই ছাত্রী কোথায় যেতে পারে সেই খোঁজ করতে গিয়ে তাদের মোবাইল ট্রাক করা হয়। দেখা যায় ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমেও মাঝেমধ্যে সক্রিয় হচ্ছিল তারা। এইসব সূত্র ধরেই আজমেঢ় শরীফে সন্ধান মেলে দুই কিশোরীর। তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো না হওয়ায় বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল।
রিষড়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান খান বলেন, "দুই ছাত্রী রিষড়ার একটি স্কুলের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিল। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো অপহরণ করা হয়েছে তাদের। পরে জানা যায় পরীক্ষার প্রস্তুতি ভাল না হওয়ায় তারা পালিয়ে যায়। ধন্যবাদ দেব চন্দননগরের পুলিশ কমিশনারকে। সিপি নিজে রিষড়া থানায় এসে তদারকি করেছেন। খুব দ্রুত ছাত্রীদের উদ্ধার করা গেছে।"