দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন, এনআরসি-সহ একাধিক ইস্যুতে কীভাবে এককাট্টা হয়ে বিরোধী দলগুলি লড়তে পারে, তা ঠিক করতে সোমবার দিল্লিতে বৈঠক ডেকেছিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। ২০ দলের সেই বৈঠক থেকে বেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
এদিন রাহুল বলেন, “পারলে প্রধানমন্ত্রী গিয়ে দেশের যেকোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের মুখোমুখি দাঁড়ান। ছাত্রদের বলুন, তাঁর সরকার অর্থনীতি নিয়ে ঠিক কী করেছে। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, সাহস থাকলে দেশের নতুন প্রজন্মের মুখোমুখি হোন প্রধানমন্ত্রী।”
প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি আরও বলেন, “দেশের ছাত্র-যুবরা যখন আন্দোলনে নেমেছে, তখন তাঁদের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে দমনপীড়ন চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। সারা দেশে সাংঘাতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বেকারত্ব, অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমছিলই, এনআরসি, সিএএ তাতে আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে। জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে যাওয়া মানুষও আন্দোলনের রাস্তায় নেমেছেন।”
বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীও। তিনি বলেন, “দেশের মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতেই এই সরকার পথ চলছে। সারা দেশের মানুষ আজ এককাট্টা হয়েছে। বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে, সংবিধান বাঁচাতে লড়াই জারি থাকবে।”
তবে বিরোধী শিবিরে ঐক্যে চিড় ধরার ছবি আগেই সামনে এসেছিল। ৮ জানুয়ারি ধর্মঘটের দিন বাংলায় বাম-কংগ্রেসের বিরুদ্ধে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ তুলে এই বৈঠকে যাবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা ছাড়াও এদিনের বৈঠকে ছিল না মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি, ডিএমকে এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি। বৈঠকে দেখা যায়নি শিবসেনা প্রতিনিধিকেও।
এদিন দিল্লিতে যখন বিরোধী দলগুলির বৈঠক চলছে তখন ধর্মতলায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ধর্না মঞ্চে উপস্থিত হয়ে বক্তৃতা দেন মমতা। পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতা বোঝাতে চাইলেন, তিনি বৈঠকে না গেলেও আন্দোলনের রাস্তাতেই আছেন।
সীতারাম ইয়েচুরি, ডি রাজা, শরদ পাওয়ার, হেমন্ত সোরেন—উপস্থিত প্রত্যেক বিরোধী নেতাই বৈঠক শেষে বলেন, আগামী দিনে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে। রবিবার রাত থেকে দিল্লির শাহিনবাগে সংখ্যালঘু মহিলাদের লাগাতার অবস্থানে বিরাট জমায়েত শুরু হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজেও শুরু হয়েছে একই ধাঁচের আন্দোলন। কলকাতার পার্কসার্কাস ময়দানেও অবস্থান চালাচ্ছেন সংখ্যালঘু মহিলারা। বিরোধী নেতাদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক পথেই এই ফ্যাসিস্তসুলভ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন জারি থাকবে।