
শেষ আপডেট: 9 June 2022 04:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের সুখবর ক্যানসার চিকিৎসায়। এবার এ দেশেই তৈরি হতে চলেছে সার্ভিক্যাল ক্যানসারের 'হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস ভ্যাকসিন' (Cervical Cancer Vaccine)। সার্ভিক্যাল ক্যানসার বা জরায়ুমুখের ক্যানসারে এই হিউম্যান প্যাপিলোমা ভ্যাকসিনের (এইচপিভি ভ্যাকসিন) বিশেষ ভূমিকা গবেষণালব্ধ ও পরীক্ষিত। অনেক দিন ধরেই এই ভাইরাসের প্রয়োগ রয়েছে। তবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে দেশে তৈরি ভ্যাকসিন এই প্রথম। এবার দেশের অ্যাপেক্স বডি 'ন্যাশনাল টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অন ইমিউনাইজেশন'-এর তরফে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া বাকি। এই মাসের ২৯ তারিখে বৈঠক রয়েছে এবিষয়ে।
সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার তরফে এই ভ্যাকসিন নির্মিত হয়েছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ন্যাশনাল টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অন ইমিউনাইজেশন এই ভ্যাকসিনের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে। সমস্ত ডেটা জমা দেওয়া হয়েছে। রিভিউ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এই মাসেই।
সম্প্রতি, সার্ভিক্যাল ক্যানসারের বিরুদ্ধে সচেতনতায় দেশের ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সি মেয়েদের এই টিকা দেওয়ার কর্মসূচি প্রস্তাব করা হয়েছে। এমনটা হলে মহিলাদের এই ক্যানসার অনেকটাই এড়ানো যাবে। কারণ এখন কেবল বেসরকারি হাসপাতালেই এই টিকা মেলে, যার প্রতি ডোজের দাম চার হাজার টাকা করে।
সেরামের টিকাটি যদি চূড়ান্ত মান্যতা পায়, তবে অনেক কম খরচে অনেক বেশি সংখ্যক মেয়েদের এই টিকা দেওয়া সম্ভব হবে, যার ভলে জরায়ুমুখের ক্যানসার অনেকটাই কমতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অ্যাপোলো হাসপাতালের কনসালট্যান্ট সার্জিক্যাল অঙ্কোলজিস্ট ডক্টর শুভদীপ চক্রবর্তী জানাচ্ছেন, ভারতের মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় স্তন ক্যানসার। তার পরেই আসে জরায়ু ও জরায়ুমুখের ক্যানসার। তথ্য বলছে, প্রতি আট মিনিটে এক জন করে ভারতীয় নারী জরায়ুমুখের ক্যানসারে মারা যাচ্ছেন।
কারণ, ডাক্তারবাবুর মতে, প্রায় ৫০ শতাংশ রোগীই ডাক্তারের কাছে এসে পৌঁছচ্ছেন স্টেজ থ্রি-তে পৌঁছে যাওয়ার পরে, ২৫ থেকে ২০ শতাংশ আসছেন স্টেজ ফোরে। অর্থাৎ তখন আর চিকিৎসার বিশেষ সুযোগই মেলে না। এর একটা মূল কারণ হল, সচেতনতার অভাব। ৭৫ শতাংশ মহিলাই অজ্ঞানতা ও অসচেতনতার কারণে এত দেরি করে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছন, যে তখন চিকিৎসায় অনেক দেরি হয়ে যায়। মূলত এই কারণেই এ দেশে ক্যানসার আক্রান্ত নারীদের মধ্যে মৃত্যুর হার অনেক বেশি।
অসচেতনতারও কারণ আছে। পরিসংখ্যান বলছে, গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করা মহিলাদের মধ্যে জরায়ু ও জরায়ুমুখের ক্যানসারের প্রবণতা বেশি। কারণ গ্রামের মহিলাদের মেনস্ট্রুয়াল হাইজিনের বিষয়টি যথাযথ নয়। দেশের মাত্র ১২ শতাংশ মহিলা স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন। এছাড়াও অসংখ্য ভুল ধারণা ও কুসংস্কার ছড়িয়ে রয়েছে মেয়েদের মাসিক ঋতুচক্র নিয়ে। সেসবের জেরে তৈরি হওয়া অপরিচ্ছন্নতা সংক্রমণ ঘটায় যৌনাঙ্গে। তা থেকেই ছড়িয়ে পড়ে সমস্যা। সময়মতো এইচপিভি ভ্যাকসিন নেওয়ার প্রবণতাও কম।
সব মিলিয়ে এই ক্যানসার ক্রমে মহামারীর আকার ধারণ করতে পারে আগামী কয়েক বছরে, এমনটাই মনে করেন ডাক্তারবাবু। নতুন ভ্যাকসিন অনুমোদন পেলে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সবকিছু ঠিকঠাক হলে, টিকাকরণ ব্যাপকভাবে করা যেতে পারে, যার ফলে জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
মর্গে ছেলের দেহ, ছাড়াতে লাগবে ৫০ হাজার! ভিক্ষা করছেন দরিদ্র মা-বাবা, বিহারের ভাইরাল ভিডিও