দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনা অতিমহামারীতে উপসাগরীয় দেশগুলিতে আটকে পড়েছেন কয়েক লক্ষ ভারতীয়। তাঁদের ফিরিয়ে আনতে শীঘ্রই বড় ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে ভারত। আটকে পড়া মানুষজনকে ফিরিয়ে আনতে কেবল বাণিজ্যিক বিমান পাঠানো হবে না। সেই সঙ্গে সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধের বিমানগুলিও পাঠানো হবে।
সরকার প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে আটকে পড়া ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনবে। সেখানে মোট ৩৪ লক্ষ ভারতীয় বাস করেন। তারপরে ফেরানো হবে সৌদি আরব ও কুয়েতে আটকে পড়া ভারতীয়দের। যাঁরা কেরল থেকে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে গিয়েছিলেন, তাঁদের ফেরানো হবে আগে। কারণ কেরল ইতিমধ্যে দু’লক্ষ অভিবাসীর জন্য কোয়ারান্টাইন সেন্টার তৈরি করেছে।
বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিঙ্গলা শুক্রবার প্রবাসী ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন।
এর আগে ন’য়ের দশকে কুয়েতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ১ লক্ষ ৭০ হাজার ভারতীয়কে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। তার আগে অত বেশি সংখ্যক অসামরিক নাগরিককে কখনও আকাশপথে উদ্ধার করা হয়নি। দু’মাস ধরে দফায় দফায় কুয়েত থেকে ভারতীয়দের আনা হয়েছিল। সেজন্য ব্যবহার করা হয়েছিল প্রায় ৫০০ বিমান। এবার প্রথম দফাতেই পশ্চিম এশিয়া থেকে ফেরত আনা হবে প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার মানুষকে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নির্দেশ দিয়েছেন, প্রবাসীদের মধ্যে যাঁরা কোনও কারণে অসুস্থ বা যাঁদের পরিবারের কেউ মারা গিয়েছেন, তাঁদের আগে ফিরিয়ে আনা হবে। ঠিক কবে অভিবাসীদের আনতে প্রথম বিমানটি রওনা হবে, তা এখনও স্থির হয়নি। সরকারি সূত্রে খবর, এয়ার ইন্ডিয়ার কমার্শিয়াল ফ্লাইট পাঠানো হবে। সেই সঙ্গে বায়ুসেনা পাঠাবে তার সবচেয়ে বড় বিমান সি-১৭ গ্লোবমাস্টার থ্রি। ২০১৫ সালে ইয়েমেন থেকে ভারতীয়দের উদ্ধার করার জন্য এই ধরনের বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি ভারতের নৌবাহিনী পাঠাবে আইএনএস জলসাওয়া নামে এক যুদ্ধজাহাজ।
জাহাজে ও বিমানে কর্মী ও যাত্রীরা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলবেন। অর্থাৎ সাধারণভাবে একটি জাহাজে বা বিমানে যত লোক আনা হয়, এক্ষেত্রে আনা হবে তার অর্ধেক।