দ্য ওয়াল ব্যুরো : চলতি মরসুমে কৃষকদের থেকে প্রতি ১০০ কেজি গম ২০১৫ টাকা দরে কিনবে কেন্দ্রীয় সরকার। গমের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) বাড়ানো হয়েছে দুই শতাংশ। আমাদের দেশ গমের ক্রেতা হিসাবে বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম। গমের অভাবী বিক্রি ঠেকানোর জন্য সরকার প্রতি বছর গমের দাম স্থির করে। এবছর সরষের বীজের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যও প্রতি কুইন্টালে বাড়ানো হয়েছে ৪০০ টাকা। এখন প্রতি কুইন্টাল সরষের বীজ কেনা হবে ৫০৫০ টাকা দরে।
নতুন তিনটি কৃষি আইন নিয়ে বিক্ষোভের মধ্যেই শস্যের সহায়ক মূল্য বাড়াল কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবারই হরিয়ানার কারনালে কৃষকদের মহাপঞ্চায়েত ও মিছিল নিয়ে ধুন্ধুমার বাধে। গত ২৮ অগাস্ট কারনালে কৃষকদের ওপরে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। লাঠির ঘায়ে আহত হয়েছিলেন সুশীল কাজলা নামে এক কৃষক। পরে তিনি মারা যান। পুলিশ দাবি করে, হৃদরোগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত মঙ্গলবার সকালে টুইট করে বলেন, সুশীল কাজলার মৃত্যুর বিচার চাইতে তাঁরা মহাপঞ্চায়েত বসাবেন ও বিক্ষোভ মিছিল করবেন।
হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরের নির্বাচন কেন্দ্র কারনালে গোলমালের আশঙ্কায় আগে থেকেই ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। সোমবার রাত ১২ টা থেকে কারনাল কুরুক্ষেত্র, কাইথাল, জিন্দ এবং পানিপথে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। কারনালের ডেপুটি কমিশনার নিশান্ত কুমার যাদব শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেন।
সোমবার হরিয়ানার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল ভিজ বলেন, কৃষকরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখাতে পারেন। কিন্তু পুলিশও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। কৃষক নেতা গুরনাম সিং চাদুনি বলেন, আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণ। এর আগে ৪০ টি কৃষক সংগঠনের যৌথ মঞ্চ সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা করে। কারনালের এসডিএম আয়ুষ সিনহার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা গিয়েছিল, তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিচ্ছেন, কৃষকদের মাথা ভেঙে দিতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর কার্যত আয়ুষ সিনহাকেই সমর্থন করেন। তিনি বলেন, "অফিসারের ওই কথাগুলি বলা ঠিক হয়নি। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কঠোর হতেই হয়।" ওই মন্তব্যে আরও অসন্তুষ্ট হন কৃষকরা। এদিন সকালে স্বরাজ ইন্ডিয়ার প্রধান যোগেন্দ্র যাদব বলেন, "আমরা প্রশাসনকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, কোন আইনে মাথা ভেঙে দেওয়ার কথা বলা আছে?" আয়ুষ সিনহাকে গত সপ্তাহে বদলি করা হয়েছে।
পুলিশ লাঠিচার্জের বিরুদ্ধে 'ন্যায়বিচার' চাইতে মঙ্গলবার কারনালে মিছিল করেন কৃষকরা। তাঁদের ঠেকানোর জন্য শহরে ৪০ কোম্পানি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়। বিকালে কৃষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে পুলিশ। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। কৃষকরা মিছিল করে সরকারি দফতরের দিকে এগোতে থাকেন। পথে কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত, যোগেন্দ্র যাদব সহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে অবশ্য ছেড়েও দেওয়া হয় তাঁদের। একসময় পুলিশ মিছিলের ওপরে জলকামান ব্যবহার করে। এদিন রাতে পাওয়া খবর অনুযায়ী, কৃষকরা সরকারি অফিসগুলির বাইরে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।