দ্য ওয়াল ব্যুরো : সরকার এবং কৃষক ইউনিয়নের যুক্ত মঞ্চ, উভয় পক্ষই চায় দ্রুত কৃষি বিল নিয়ে বিতর্কের নিষ্পত্তি হোক। কিন্তু ভিন্ন মতাদর্শের লোকজন আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে পড়ার জন্যই বিরোধ মিটতে দেরি হচ্ছে। সোমবার এমনই মন্তব্য করল কেন্দ্রীয় সরকার। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে, কৃষকদের সঙ্গে সরকারের দশম দফার বৈঠক ১৯ জানুয়ারির বদলে হবে ২০ জানুয়ারি। সোমবার কৃষি মন্ত্রক জানিয়েছে, বিজ্ঞান ভবনে দুপুর দু'টো থেকে শুরু হবে দু'পক্ষের আলোচনা।
সরকারের দাবি, কৃষকদের ভাল-র জন্যই তিনটি আইন করা হয়েছে। কৃষক আন্দোলন সম্পর্কে মোদী সরকারের বক্তব্য, ভাল কিছু করতে গেলে বাধা আসেই। কৃষি আইন নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, কৃষক নেতারা একেবারে নিজেদের শর্তে তার সমাধান করতে চাইছেন। সেজন্যই সহজে বিতর্কের মীমাংসা হচ্ছে না।
গত সপ্তাহে কৃষি আইন নিয়ে একটি প্যানেল তৈরি করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তার সদস্যরা প্রথমবারের জন্য বৈঠকে বসবেন মঙ্গলবার। কৃষি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পুরুষোত্তম রুপালা সোমবার বলেন, "কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কথা হলে আগেই সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা মিটছে না।" তাঁর মতে, এই আন্দোলনের মধ্যে নানা মতদর্শের লোকজন ঢুকে পড়েছে। তারা নিজেদের মতো করে সমস্যার সমাধান চাইছে। সেজন্যই আন্দোলন শেষ হচ্ছে না। রুপালার কথায়, "দু'পক্ষই সমাধান চায়। কিন্তু তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। কিন্তু আমি নিশ্চিত, শীঘ্রই সমাধান সূত্র পাওয়া যাবে।"
কৃষি আইনগুলি বাতিলের দাবিতে আগামী ২৬ জানুয়ারি দিল্লিতে ট্র্যাক্টর মিছিল করতে চান কৃষকরা। সেই মিছিলে যাতে অনুমতি না দেওয়া হয়, সেজন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল দিল্লি পুলিশ। সোমবার শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, পুলিশই স্থির করুক, প্রজাতন্ত্র দিবসে ট্রাক্টর মিছিল করতে দেওয়া হবে কিনা। কারণ এটা আইন-শৃঙ্খলার ব্যাপার।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ এদিন বলে, দিল্লি পুলিশ এক্ষেত্রে যাবতীয় আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। প্রধান বিচারপতি বলেন, "দিল্লিতে কারা ঢুকবে, ক'জনকে ঢুকতে অনুমতি দেওয়া হবে, তা আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্ন।" অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল বলেন, "এখন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় আদালত নির্দেশ দিতে পারে।" বিচারপতিরা বলেন, "পুলিশের কী ক্ষমতা আছে, তারা কীভাবে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করবে, সবই কি সুপ্রিম কোর্ট বলে দেবে? কী করতে হবে তা আমরা আপনাদের বলে দেব না।"
দিল্লি পুলিশের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার প্রস্তাবিত ট্র্যাক্টর মিছিলের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, ২৬ জানুয়ারি দিল্লিতে ওই মিছিল হলে প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান বিঘ্নিত হবে। তাতে পুরো জাতি অস্বস্তিতে পড়বে।
কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, প্রত্যেকের আন্দোলন করার অধিকার আছে ঠিকই কিন্তু বিশ্বের সামনে দেশকে অপমান করার অধিকার কারও নেই। শীর্ষ আদালতের কাছে সরকার আবেদন করেছিল, ২৬ জানুয়ারি রাজধানী বা তার আশপাশের এলাকায় কাউকে যেন ট্যাক্টর, ট্রলি বা অন্য গাড়ি নিয়ে মিছিল করার অনুমতি না দেওয়া হয়।