দ্য ওয়াল ব্যুরো: একাধিক রাজ্যের সরকার এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের উপর ভিত্তি করে আরও বাড়তে পারে লকডাউনের মেয়াদ। এমনটাই জানাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি শীর্ষ সূত্র।
মার্চ মাসের ২৫ তারিখ থেকে সরকারি ভাবে লকডাউন ঘোষিত হয়েছে দেশে। ২১ দিনের এই লকডাউন শেষ হওয়ার কথা ১৪ এপ্রিল। কিন্তু তার আগে থেকেই শোনা যাচ্ছে, বিশেষজ্ঞরা জোর দিচ্ছেন আরও দীর্ঘ লকডাউনের দিকে। কারণ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে এটাই একমাত্র উপায়। এর মধ্যেই ভারতে বেশ দ্রুত হারেই ছড়াতে শুরু করেছে ভাইরাসের প্রকোপ। লকডাউন শেষ হলে মানুষের মেলামেশা বাড়লে আরও সমস্যা তৈরি হতে পারে।
সোমবার ছিল দেশজুড়ে লকডাউনের ১৪তম দিন। সেদিনই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মন্ত্রী পরিষদের বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে আলোচনার মূল বিষয়ই ছিল কীভাবে ধাপে ধাপে লকডাউন তোলা যাবে। এই ব্যাপারে নিজে কোনও সিদ্ধান্ত না জানিয়ে সকলের কাছে মতামত চান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জেলা স্তর থেকে পরামর্শ নিয়ে তবেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কোন জায়গার কী অবস্থা রয়েছে এবং লকডাউন ওঠার পরে কী কী ব্যবস্থা করা যাবে সেসব বিবেচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এদিন একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, লকডাউন উঠবে ধাপে ধাপে। সেই সঙ্গে চালু থাকবে নানা বিধিনিষেধ।
ওই বৈঠকে হাজির এক মন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেছেন জেলা স্তরে প্রশাসকদের সঙ্গে কথা বলে তবেই সকলে পরামর্শ দিন কীভাবে লকডাউন তোলা ঠিক হবে।” দেশে প্রতিদিনই কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে দিল্লির নিজামুদ্দিনের জমায়েত। এখনও পর্যন্ত তবলিঘি জামাতে উপস্থিত সকলের খোঁজ মেলেনি। ফলে তাঁদের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছেন তাঁদের শনাক্ত করার কাজও পুরোপুরি করা যায়নি। এর ফলে লকডাউন তোলা নিয়ে আরও বেশি শঙ্কিত কেন্দ্রীয় সরকার। এদিন এই বিষয়েও আলোচনা হয়েছে মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে।
এরই মধ্যে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করলেন, ১৫ এপ্রিলেই যেন লকডাউন প্রত্যাহার করা না হয়। তার মেয়াদ যেন অন্তত দু’সপ্তাহ বাড়ানো হয়।
দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার মসজিদে তবলিঘ-ই-জামাতে যোগদানকারীদের থেকেই তেলেঙ্গানায় সংক্রমণ ছড়ানোর হার বেড়েছে। ছ’জন জামাত সদস্যের মৃত্যু হয়েছে ওই রাজ্যে। আক্রান্তের সংখ্যা রোজই প্রায় বাড়ছে। সোমবার পর্যন্ত তেলেঙ্গানায় ৩২১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। কোভিড সংক্রমণের কারণে মারা গিয়েছেন সাত জন।
লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি হবে কি হবে না এই নিয়ে যখন আলোচনা শুরু হয়ে গেছে তখন তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নায়ডু। মঙ্গলবার তিনি বলেন, “যদি ১৪ এপ্রিলের পরও এই পরিস্থিতি চলে তাহলে আমাদের সবাইকে কষ্ট করে আরও ক’টা দিন কাটিয়ে দিতে হবে।”
উপরাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা তৈরি হয়েছে। অনেকের বক্তব্য, লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে দিলেন বেঙ্কাইয়া নায়ডু। দেশের উপরাষ্ট্রপতি যখন এই ধরনের কথা বলছেন তখন বুঝতে হবে নিশ্চয়ই সরকার সে ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে। মঙ্গলবার উপরাষ্ট্রপতি বলেছেন, “ক’টা দিন কষ্ট করলে যদি একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ পাওয়া যায় তাহলে সেটা আমাদের করতে হবে।”
বুধবার কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর জানিয়েছেন, এটা সারা দেশের ব্যাপার। ঠিক সময়ে মানুষকে জানিয়ে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, "আমরা প্রতি মিনিটে সারা বিশ্বের পরিস্থিতির খেয়াল রাখছি। সব দিক ভেবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞরা খতিয়ে দেখছেন পুরো বিষয়টি।"