দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিশিল্ড টিকার ১ কোটি ১০ লক্ষ ডোজ গতকালই কিনে ফেলেছে সরকার। ভায়াল প্রতি ২০০ টাকা দামে কেন্দ্রীয় সরকারকে টিকার ডোজ বিক্রি করেছে সেরাম ইনস্টিটিউট। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এপ্রিলের মধ্যেই টিকার আরও সাড়ে চর কোটি ডোজ সরকারকে পৌঁছে দেওয়া হবে।
কেন্দ্রের অধীনস্থ সংস্থা হিন্দুস্থান লাইফকেয়ার লিমিটেড সেরাম ও ভারত বায়োটেকের কাছ থেকে টিকা কিনছে। এই বিপুল পরিমাণ ডোজ এর পরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে রাজ্যে রাজ্যে বন্টন করা হবে। গতকাল সকালে পুণের সেরাম ইনস্টিটিউটের ল্যাবরেটরি থেকে এক কোটি দশ লক্ষ টিকার ডোজ সরবরাহ করা হয়ে গেছে। বাকি ডোজ ধাপে ধাপে কিনবে ওই কেন্দ্রীয় সংস্থা।
সেরাম প্রধান আদর পুনাওয়ালা জানিয়েছেন, পাঁচ ডোজ এখনই তৈরি আছে। ভায়াল প্রতি ২০০ টাকা দামে সরকারকে বিক্রি করা হবে। সরকার মোট ৫ কোটি ৬০ লক্ষ টিকার ডোজ কেনার প্রস্তাব দিয়েছে।
প্রতি সপ্তাহে কয়েক লক্ষ করে টিকার ডোজ সরবরাহ করা হবে। চাহিদা মতো রাজ্যে রাজ্যে টিকার বন্টন হবে। মোট দশ কোটি কোভিশিল্ড টিকার ডোজ দেশবাসীর জন্যই সংরক্ষণ করা থাকবে। ভিন দেশে টিকার রফতানি হবে মার্চ-এপ্রিলের পরে। ইতিমধ্যেই ব্রাজিল, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া সহ একাধিক দেশ টিকা কেনার প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে।
আদর অবশ্য আগে বলেছিলেন, টিকার প্রতি ডোজের দাম পড়তে পারে ২৫০ টাকা। সরকারকে এই দামেই টিকা দেওয়া হবে। তবে দরকার পড়লে দাম কমানো হতে পারে। আর বেসরকারি সংস্থাগুলিকে ডোজ প্রতি ১০০০ টাকা দামে টিকা বিক্রি করা হবে। তবে টিকার উৎপাদন ও বাদবাকি পরিস্থিতি বিচার করে ডোজ প্রতি দাম ৬০০-৭০০ টাকাও রাখা হবে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই টিকা সংরক্ষণেও কোনও ঝামেলা নেই। খুব ঠান্ডার দরকার পড়বে না। কোল্ড-স্টোরেজের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসেই টিকা ভাল থাকবে। তাই ভ্যাকসিনে ট্রান্সপোর্টে কোনও সমস্যা হবে না।
মকর সংক্রান্তি পেরিয়ে ১৬ জানুয়ারি থেকে গণহারে টিকাকরণ শুরু হবে ভারতে। প্রথম ৩০ কোটিকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রথমে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী তথা কোভিড ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কারদের (পুলিশ, পুরসভার কর্মীরা) টিকা দেওয়া হবে। এর পরে প্রবীণ ও কোমর্বিডিটির রোগীরা টিকার অগ্রাধিকার পাবেন। ৫০ বছরের কম যাঁদের শরীরে ক্রনিক রোগ রয়েছে তাঁদেরও রাখা হয়েছে টিকার অগ্রাধিকারের তালিকায়। চার ক্যাটেগরিতে হবে টিকাকরণ। ৩০ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিনের দুটি করে ডোজ দিতে মোট ৬০ কোটি ডোজ দরকার পড়বে। এই বিপুল পরিমাণ ডোজ সেরাম ইনস্টিটিউট ও ভারত বায়োটেক তৈরি করবে। দুই সংস্থাই জানিয়েছে, তারা একজোট হয়ে টিকার উৎপাদন ও বিতরণ করবে।