দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভোটের আগে অযোধ্যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে নতুন করে আর্জি জানাল মোদী সরকার। অযোধ্যায় বিতর্কিত জমির কাছে একটুকরো জমি যাতে রাম জন্মভূমি ন্যাসের হাতে তুলে দেওয়া যায়, সেজন্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের কাছে অনুমতি চেয়েছে। রামমন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা কার্যকর করার দায়িত্বে আছে ওই ন্যাস।
এর আগে দক্ষিণপন্থী হিন্দু সংগঠনগুলি দাবি জানিয়েছিল, সরকার অধ্যাদেশ জারি করে ভোটের আগে বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির নির্মাণের পথ প্রশস্ত করুক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তা সম্ভব নয়। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সোমবার সর্বোচ্চ আদালতে ওই আর্জি জানিয়ে সরকার প্রমাণ করল, তারা রামমন্দির নির্মাণে দায়বদ্ধ।
সরকার আর্জি জানিয়েছে, অযোধ্যার যে জমি বিতর্কিত নয়, সেখানে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ বাতিল করা হোক। অযোধ্যায় মন্দির নির্মাণের জন্য ওই বাড়তি জমি সরকার অধিগ্রহণ করেছিল। এখন ওই জমি সরকার রামজন্মভূমি ন্যাসের হাতে তুলে দিতে চায়। রামমন্দির নির্মাণের কাজ দেখাশোনা করার জন্য রামজন্মভূমি ন্যাস ন্যাস গঠন করেছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।
বাবরি মসজিদের বিতর্কিত কাঠামোটি হিন্দুত্ববাদীরা ভেঙে ফেলার এক বছর বাদে, ১৯৯৩ সালে সরকার ওই এলাকায় ৬৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ওই জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে। মঙ্গলবারই অযোধ্যা মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিচারপতি এস এ বোবদে অসুস্থ হয়ে পড়ায় শুনানি পিছিয়ে গিয়েছে। সোমবার কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ বলেন, মন্দির-মসজিদ মামলায় দ্রুত শুনানি হওয়া উচিত। তাঁর কথায়, ৭০ বছর ধরে অযোধ্যা মামলার মীমাংসা হয়নি। ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট মন্দিরের পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু এখন মামলাটি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। বিষয়টির অবিলম্বে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।
হিন্দুত্ববাদীরা দাবি জানিয়েছিল, জরুরি ভিত্তিতে ওই মামলার শুনানি হোক। কিন্তু গতবছর সুপ্রিম কোর্ট সেই আর্জি নাকচ করে দেয়।
কিছুদিন আগে বিচারপতি ইউ ইউ ললিত ওই মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। কারণ তিনি আগে ওই সংক্রান্ত একটি মামলায় একটি পক্ষের কৌঁসুলি ছিলেন। তখন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ অযোধ্যা মামলা শুনানির জন্য নতুন করে বেঞ্চ গঠন করেন। তাতে স্থান পান বিচারপতি আবদুল নাজির ও বিচারপতি অশোক ভূষণ।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়া আগে শেষ হোক। তারপরে সরকার অবশ্যই তার দায়িত্ব পালন করবে।