দ্য ওয়াল ব্যুরো : কোভিড অতিমহামারী ঠেকাতে গত ২৫ মার্চ দেশ জুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত ১ জুন থেকে শুরু হয়েছে আনলকের প্রক্রিয়া। কেন্দ্রীয় সরকার জানতে পেরেছে, আনলক পর্বেও বিভিন্ন রাজ্যে এলাকায় এলাকায় লকডাউন জারি থাকছে। ফলে পণ্য চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষও সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারছেন না। পণ্য ও মানুষ চলাচলে বাধা সরাতে এবার সক্রিয় হয়েছে কেন্দ্র। মোদী সরকার প্রতিটি রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে, রাজ্যের মধ্যে এবং এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পণ্য ও মানুষ চলাচলে যেন কোনও বাধা না থাকে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভাল্লা সম্প্রতি প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, এখনও বিভিন্ন জেলায় বিধিনিষেধ বলবৎ রাখা হয়েছে। আনলক থ্রি-র নির্দেশিকা সকলেরই মেনে চলা উচিত। এখনও বিধিনিষেধ থাকলে পণ্য সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হবে। এর ফলে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যথেষ্ট সংখ্যক চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে না।
অজয় ভাল্লা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, আনলকের নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, রাজ্যের অভ্যন্তরে এবং এক রাজ্য থেকে আর এক রাজ্যে পণ্য ও মানুষ চলাচলে সব বাধা অপসারণ করতে হবে। একইসঙ্গে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি আচ্ছে, সেখানে যাওয়ার জন্য যদি কেউ সীমান্ত পার হন, তাঁর বিশেষ অনুমতি বা ই-পারমিট লাগবে না। এর পরেও যদি কেউ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, সে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশ অমান্য করেছে বলে ধরে নেওয়া হবে।
কোভিড সংক্রমণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার জন্যই কয়েকটি রাজ্য আনলক থ্রি পর্যায়েও আঞ্চলিক লকডাউন করে। এ দেশে কোভিডে মোট যত জনের মৃত্যু হয়েছে এ পর্যন্ত, তার মধ্যে ৪৫ শতাংশ মৃত্যুই হয়েছে ১ জুন থেকে লকডাউন শিথিল করার পরে। শুধু তাই নয়, বিপদ আরও বাড়িয়ে পরিসংখ্যান বলছে, ৮ জুন থেকে দেশে আক্রান্ত হওয়ার যে হার, তাকে ছাপিয়ে গেছে মৃত্যুহার! যেখানে গত সপ্তাহ থেকে দেখে কোভিড আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়েছে ১.২৯ গুণ, সেখানে মৃত্যুহার বেড়েছে ১.৩৩ গুণ! এর ফলে গোটা দেশে কোভিডে মৃত্যুর হার ২.৭৮ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াল ২.৮৯ শতাংশ।
লকডাউনের পরেই এমন পরিসংখ্যান স্বাস্থ্যকর্তাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পর্যাপ্ত সাবধানতা নিয়ে লকডাউন শিথিল করার যে পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার, তাতে যে খামতি থেকে যাচ্ছে, সাধারণ মানুষের সচেতনতায় যে খামতি থেকে যাচ্ছে, সর্বোপরি এই সংক্রমণ যে ক্রমেই আরও তীব্র আকার ধারণ করছে, তা এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট।