
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 20 September 2024 22:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে তৈরি হওয়া বন্যা পরিস্থিতির জন্য ডিভিসিকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ঝাড়খণ্ডকে বাঁচাতে বাংলাকে ইচ্ছে করে ডোবানোর চেষ্টা করছে ডিভিসি আর এই নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারও কোনও পদক্ষেপ করছে না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই চিঠির প্রেক্ষিতে জবাব দিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রক এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ডিভিসি জল ছাড়ার আগে সমস্ত নিয়ম মেনে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল রাজ্য সরকারকে।
মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, ডিভিসিতে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি রয়েছেন। তাঁর মারফত সব তথ্য আগেই দেওয়া হয়েছিল। তারপরই জল ছাড়া হয়েছে। আর বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হলে সময় বুঝে যে জল ছাড়তে হবেই, তাও জানে রাজ্য। তাই পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে না জানিয়ে জল ছাড়া হয়েছে এমন অভিযোগ ঠিক নয় বলেই দাবি কেন্দ্রের।
অন্যদিকে ঝাড়খণ্ডকে বাঁচাতে বাংলাকে ডোবানোর চেষ্টার যে অভিযোগ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী করেছেন তাও নস্যাৎ করেছে ডিভিসি। এজন্য ঝাড়খণ্ড সরকারের তেনুঘাট বাঁধকে দায়ী করে ডিভিসির দাবি, ঝাড়খণ্ডের জলাধার থেকে যে ৮৫ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে তার সঙ্গে ডিভিসির যোগ নেই। সেটি ঝাড়খণ্ড সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন।
গত কয়েকদিনে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এলাকার অবস্থা দেখে তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, এটা 'ম্যান মেড বন্যা', ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাকে ডোবানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে মমতার নিশানায় রয়েছে ডিভিসি।
মমতার বক্তব্য, ডিভিসির জলধারণ ক্ষমতা আগের থেকে ৩৬ শতাংশ কমে গেছে। ড্রেজিং না করার জন্যই এমন হয়েছে। তাই মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে ছাড়া জলের ফলে হাওড়া, হুগলি, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বর্ধমান-সহ দক্ষিণবঙ্গের বহু জেলায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্র অবশ্য সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার পাঁশকুড়ায় গিয়ে মমতা সাফ জানিয়েছিলেন, আগামী দিনে তিনি ডিভিসির সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেন কিনা ভাববেন! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেওয়া চিঠিতে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে কোনও উত্তর আসার আগেই কেন্দ্র সরকার তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এখন দেখার কেন্দ্রের উত্তরের জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী পদক্ষেপ করেন।