দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাস ক্রমেই প্রসারিত করছে তার থাবা। এ দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ পার করেছে বলে খবর বুধবার সকাল পর্যন্ত। বিশ্বজুড়ে এই সংখ্যাটা ১ লক্ষ। মারা গিয়েছেন চার হাজারেরও বেশি মানুষ। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের দ্রুততা চিন্তায় ফেলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু-কেও। এরই মধ্যে করোনা তাড়ানোর জন্য এক অভিনব দাওয়াই দিয়ে বসলেন ভারতের এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আথাওয়ালা৷ প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে, 'গো করোনা গো' স্লোগান দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেন করোনাভাইরাস। তাঁর এই কাণ্ডের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই হাসির রোল পড়ে গিয়েছে।
জানা গেছে, গত মাসের ২০ তারিখে মুম্বইয়ের গেটওয়ে অব ইন্ডিয়ার সামনে এই কাণ্ড করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে আবার ছিলেন চিনা কনসাল জেনারেল। যেহেতু চিন থেকে এই রোগের উৎপত্তি, তাই চিনের কনসাল জেনারেলকে ডেকে নেন মন্ত্রী। তার পরে চিৎকার করে স্লোগান তোলেন, 'গো করোনা গো'! হাতে ছিল প্ল্যাকার্ডও। যেন রাজনৈতিক কোনও বিষয়ে গলা তুলেছেন মন্ত্রী! তিনি এবং তাঁর অনুগামীরা একসঙ্গে চিৎকার করতে থাকলেন, গো করোনা গো!
দেখুন সেই ভিডিও।
https://twitter.com/ananthkrishnan/status/1237280815484043265
এই ঘটনার ভিডিও সামনে আসতেই নেটিজেনদের কাছে রীতিমত হাসির খোরাক হয়ে গিয়েছেন মন্ত্রী৷ তবে বিরোধীরা অনেকে আবার মনে করছেন, এটা প্রচারের কৌশল ছাড়া আর কিছু নয়।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে চিনের উহান শহরে শুরু হওয়া এই ভাইরাসের আক্রমণ নিয়ে গোটা বিশ্ব আতঙ্কিত। এমন সিরিয়াস সময়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এমন আচরণে রীতিমতো স্বাভাবিক ভাবেই বিরক্তি প্রকাশ করেছেন অনেকে।
ভারতে ইতিমধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬০।
উহান ফেরত কেরলের তিন ছাত্রের মধ্যে প্রথম করোনাভাইরাসের খোঁজ মিলেছিল। সংক্রমণ ছড়ানোর আতঙ্কে ঘরবন্দি ছিলেন অন্তত ৪০০ জন। ধীরে ধীরে কেরলেও ছড়িয়ে পড়ে সংক্রমণ। কেরলে মোট কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ১১১৬ জনকে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, সংক্রমণ সন্দেহে রাজ্যের ১৪৯টি হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে তাঁদের। প্রতিটি হাসপাতালে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড। রোগীদের চিকিৎসার জন্য রয়েছে অভিজ্ঞ ডাক্তারের টিম। আক্রান্তদের দেহরসের নমুনা পাঠানো হয়েছে পুণের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে।
ইরান থেকে বায়ুসেনার সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমানে চাপিয়ে আজ সকালেই দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ৫৮ জনকে। ইরান ফেরত এই ভারতীয়দের মধ্যে কোনও সংক্রমণ ধরা পড়েনি বলেই স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর। তবে এখনই তাঁদের বাড়ি ফিরে যেতে দেওয়া হবে না। কিছুদিন কোয়ারেন্টাইনে রাখা হতে পারে।
সরকারি সূত্রে খবর, হাসপাতালগুলির উপর থেকে চাপ কমাতেই দেশের ৩৭টি জায়গায় ৫৪৪০ বেডের বিশাল কোয়ারেন্টাইন সেন্টার বানানোর জন্য সিএপিএফকে (সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স) নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। তাছাড়াও সেন্টার রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স, সিআইএসএফ (সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স), ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশ, সশস্ত্র সীমা বল ও এনএসজি (ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড)-কে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে ৭৫টি আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।