
শেষ আপডেট: 19 September 2022 04:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খ্রিস্ট (Christian) এবং ইসলামে (Islam) ধর্মান্তরিত (Converted) তফসিলি জাতি (SC) বা দলিতদের (dalit) সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত অবস্থা কেমন? এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার (central government) একটি জাতীয় তথ্যানুসন্ধান কমিশন (commission) গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই কমিশন সেই সমস্ত তফসিলি জাতি বা দলিতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে যারা ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিস্টান অথবা মুসলমান হয়েছে। কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকার ধর্মান্তরিত দলিতদের তফসিলি জাতির জন্য বরাদ্দ সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হবে। বলাইবাহুল তাদেরও তফসিলি জাতির তালিকা ভুক্ত করে নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, কেন্দ্রীয় সরকারের এই ভাবনা বাস্তবায়িত হলে দলিত-রাজনীতি ঘিরে ভোটের অঙ্কে বড় পরিবর্তন আসবে। বিহারের মুখ্যমন্রী নীতীশ কুমার ইতিমধ্যে তার রাজ্যে জাতিগত সমীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। লোকসভা ভোটের আগেই সেই রিপোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে জমা পড়ার কথা। নীতীশের লক্ষ্য ওই রিপোর্টকে হাতিয়ার করে তার মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময়ে পশ্চাৎপদ অংশের অগ্রগতি দাবি করা এবং পিছিয়ে থাকা অংশকে বাড়তি সুবিধা প্রদান।
কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার সারা দেশে জাতিগত সমীক্ষায় সায় দেয়নি। কিন্তু রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ-সহ গেরুয়া শিবিরের বৃহত্তর হিন্দু সমাজকে এক ছাতার তলায় আনার ভাবনার বাস্তবায়ন প্রস্তাবিত সমীক্ষার উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার অগ্রসর হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলাকে সামনে রেখে।
ধর্মান্তরিত দলিতদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে কমিশন গঠনের প্রস্তাব বহু বছর ধরেই সরকারের বিবেচনাধীন ছিল। সূত্রের খবর, খুব শিগগির এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এ জন্য কেন্দ্রের সংখ্যালঘু বিষয়ক এবং কর্মী ও প্রশিক্ষণ মন্ত্রক প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছে। এখন প্রস্তাবটি নিয়ে স্বরাষ্ট্র, আইন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ক্ষমতায়ন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা চলছে।
সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলায় খ্রিস্টান এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী দলিতদের সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের কাছে এই সংক্রান্ত কোনও তথ্য নেই। সেই কারণে এই ধরনের কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সরকারি স্তরে উদ্যোগ শুরু হয়েছে।
সংবিধানের ৩৪১ নন্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, হিন্দু, শিখ এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পশ্চাৎপদ অংশকেই শুধু তফসিলি জাতি ভুক্ত বলে মান্যতা দেওয়া হবে। শুরুতে শুধু হিন্দুদেরই এই তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। ১৯৫৬ ও ১৯৯০ সালে যথাক্রমে শিখ এবং বৌদ্ধদের এই তালিকায় যুক্ত করা হয়।
চাকরি-প্রতারণা ও নবান্ন, সর্ষের মধ্যে ভূত নেই তো!
৩০ অগাস্ট সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে খ্রিস্টান এবং ইসলামে ধর্মান্তরিত দলিতদেরও তফসিলি জাতি হিসাবে সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে তিন সপ্তাহের মধ্যে মতামত দিতে বলে। সর্বোচ্চ আদালতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় হিন্দু, বৌদ্ধ এবং শিখ ধর্মের তফসিলি জাতি যেমন সংরক্ষণ পায় সেভাবে ধর্মান্তরিত দলিতদের জন্য সংরক্ষণের দাবি করা হয়েছে।
বিচারপতি এসকে কৌলের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানিয়েছেন, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। তিনি সরকারের বক্তব্য আদালতকে জানাতে সময় চান। সূত্রের খবর, আগীমী ১১ অক্টোবর এই বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হতে পারে। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া পিটিশনে বলা হয়েছে, ধর্ম পরিবর্তনের মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন হয় না। ফলে ধর্ম পরিবর্তনের ফলে কাউকে সংরক্ষণের ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা সংবিধানে উল্লেখিত সমতার প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী।
সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত কমিশনে তিন-চারজন সদস্য থাকতে পারেন। কমিশনের চেয়ারপারসন কেন্দ্রের ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা পাবেন। এই কমিশন খ্রিস্টান বা ইসলামে ধর্মান্তরিত দলিতদের অবস্থা এবং পরিবর্তনগুলি বিচার-বিশ্লেষণ করবে। তফসিলি জাতিভুক্তদের বর্তমান তালিকায় নতুন জাতি সংযোজনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও সরকারকে দিশা দেবে কমিশন।