দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আরও একটা পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। আগেই চালু হয়েছিল পোস্ট পেড মোবাইল পরিষেবা, আজ মঙ্গলবার থেকে আংশিক ভাবে চালু হচ্ছে ট্রেন পরিষেবাও।
সংবিধান থেকে অস্থায়ী ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার সময়ই জম্মু-কাশ্মীরে ট্রেন পরিষবা সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, বন্ধ করে দেওয়া হয় টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবস্থা। তখনই সরকার আশ্বাস দিয়েছিল, যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক করা হবে সব পরিষেবাই।
উত্তর রেলের এক আধিকারিক সোমবার সংবাদ সংস্থাকে জানান, মঙ্গলবার থেকেই উপত্যকায় রেল পরিষেবা চালু হবে।
উত্তর রেলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “উপযুক্ত পদক্ষেপের পরে এবং সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত ট্রেন চালাননোর ব্যাপারে জম্মু-কাশ্মীরের জিআরপির কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পরে ফিরোজপুর ডিভিশনে সীমিত সংখ্যক যাত্রী নিয়ে শ্রীনগর-বারামুলা-শ্রীনগর লাইনে দু’জোড়া ট্রেন চলাচল শুরু হবে ১২ নভেম্বর থেকে।”
৫ অগস্ট সরকার ঘোষণা করে, সংবিধান থেকে অস্থায়ী ৩৭০ এবং ৫৫এ ধারা বাতিল করা হচ্ছে; জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যকে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হবে অক্টোবর মাসে।
জম্মু-কাশ্মীরের বান্দিপোরায় সম্প্রতি নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে গুলির লড়াই হয়েছে জঙ্গিদের। ২৯ অক্টোবর কুলগামে জঙ্গিদের এলোপাথাড়ি গুলিতে প্রাণ হারান এ রাজ্যের পাঁচ শ্রমিক। তার আগের দিনই বিজবেহেরায় জঙ্গিদের গুলিতেই খুন হয়েছেন এক লরিচালক। অক্টোবরের গোড়ায় সোপিয়ানে দুই গাড়ি চালকের মৃত্যু হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, শীতেই কাশ্মীরে জঙ্গিরা বড় হামলার ছক কষছে বলে খবর গোয়েন্দা রিপোর্টে। কাশ্মীরের পরিস্থিতি এখনও স্থিতিশীল নয় বলে অনেক দেশই মন্তব্য করছে। জামার্নির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলও বলেছেন যে, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কাশ্মীর নিয়ে কথা বলবেন।
কাশ্মীরে এখনও সে ভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হয়নি। কাশ্মীরে চলাফেরাও নিয়ন্ত্রিত। সেখানে যেতে দেওয়া হচ্ছে বিরোধী নেতাদেরও। মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা না থাকা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমান বলে অনেকে অভিযোগ তুলছেন। এই অবস্থায় কাশ্মীরের যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে আরও একটি পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার।
প্রধানমন্ত্রী মরেন্দ্র মোদী আগেই আশ্বাস দিয়েছেন, জম্মু-কাশ্মীরে নির্বাচন করিয়ে যত শীঘ্র সম্ভব সেখানে গণতান্ত্রিক ভাবে সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। ৩১ অক্টোবর থেকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ দুটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত হয়েছে।