দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানুষের আস্থা ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কতটা মরিয়া হালফিলে কয়েকটি ঘটনাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। সাউথ ব্লক সূত্র জানাচ্ছে, ভোটের আগে আরও বড় কিছু ধামাকা করতে চান প্রধানমন্ত্রী। মধ্যবিত্ত চাকুরেদের আর্থিক সুরাহা দিতে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত করার ঘোষণা করতে পারে তাঁর সরকার।
বস্তুত লোকসভা ভোটের আগে পূর্ণাঙ্গ বাজেট ঘোষণার সুযোগ নেই। সরকার সংসদে ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশ করবে। এবং তাতেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি কর-সুরাহার কথা ঘোষণা করতে পারেন। বর্তমানে আড়াই লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় কর মুক্ত। আড়াই লক্ষ টাকা থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর পাঁচ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। আয়করের ক্ষেত্রে এই ধাপটাই তুলে দিয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়কে করমুক্ত করা হতে পারে। প্রত্যক্ষ করের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন করা হলেও, পরোক্ষ করের হারের ক্ষেত্রে খুব বেশি পরিবর্তনের অবশ্য পক্ষে নয় প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় এবং অর্থমন্ত্রক।
হিন্দিবলয়ের তিন রাজ্যে ভোটে পরাজয়ের পর সরকার তথা বিজেপি যে চাপে রয়েছে সন্দেহ নেই। প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া বইতে শুরু করে দিয়েছে দেশ জুড়ে। কোথাও কম, কোথাও বেশি। নর্থব্লকের এক আমলার কথায়, ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে গত এক মাস ধরে সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সুরাহা দেওয়া এবং খুশি করার প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। যেমন, পণ্য পরিষেবা কর তথা জিএসটি-র হারের ক্ষেত্রে বদল ঘটানো হয়েছে। ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় কিছুপণ্য সস্তা হয়েছে। জানুয়ারিতে কিছু পণ্যের উপর আরেক প্রস্ত জিএসটি কমানো হবে। এরই পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিক সুরাহা দেওয়ার জন্যও বড় পদক্ষেপ করার কথা ভাবছে সরকার। কারণ, শহরের পাশাপাশি গ্রামেও আস্থা ধরে রাখা জরুরি।
প্রসঙ্গত, গত বাজেটে আয়করের হারের ক্ষেত্রে কোনও বদল করেনি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। শেষ বার কর-হারের পরিবর্তন হয়েছিল ২০১৭ সালে। তার আগে আড়াই লক্ষ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা আয়ের উপর ১০ শতাংশ হারে কর ধার্য করা হত। ২০১৭ সালের বাজেটে তা কমিয়ে পাঁচ শতাংশ করেছিলেন জেটলি। কিন্তু গত বাজেটে জেটলি বলেছেন, এর আগের তিন বছরে অনেকটাই কর-সুরাহা দেওয়া হয়েছে। তাই এ বার ট্যাক্স-স্ল্যাবের কোনও পরিবর্তন করা হল না। তবে চিকিৎসা ও পরিবহণের খরচ বাবদ ৪০ হাজার টাকা স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন চালু করেছিলেন জেটলি।
অর্থমন্ত্রক সূত্রের বক্তব্য, ভোট বছরে বড় ঘোষণার জন্য গত বাজেটে সংযত ছিল সরকার। কিন্তু এ বার তো মরণ বাঁচন পরীক্ষা।