
শেষ আপডেট: 16 December 2023 18:15
সুবীরেশ ভট্টাচার্য গ্রেফতার হওয়ার পর উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে ওমপ্রকাশ মিশ্রকে নিয়োগ করেছিল রাজ্য সরকার। গত সেপ্টেম্বর মাসে তাঁকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। শুধু তাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের নির্দেশও দিয়েছিলেন রাজ্যপাল।
এবার ওমপ্রকাশকে মওলানা আজাদ ইনস্টিটিউট অফ এশিয়ান স্টাডিজের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য করতে আপত্তি জানাল কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক। কারণ ওই প্রতিষ্ঠানে একদা ওমপ্রকাশ এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। তখন তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।
মওলানা আজাদ ইনস্টিটিউট অফ এশিয়ান স্টাডিজ (Maulana Azad Institute of Asian Studies – MAKAIAS) হল একটি স্বশাসিত গবেষণা কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক এই প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ভার বহন করে। প্রতিষ্ঠানে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে একজনকে সদস্য করা হয়। তাঁর নাম সরকারিভাবে রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতর কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের কাছে প্রস্তাব হিসাবে পাঠায়।
সূত্রের খবর, এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে সদস্য করার জন্য তৃণমূল নেতা ওমপ্রকাশ মিশ্রর নাম প্রস্তাব করেছিল নবান্ন। কিন্তু সংস্কৃতি মন্ত্রক চিঠি দিয়ে রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতরকে জানিয়ে দিয়েছে, বিকল্প নাম প্রস্তাব করলে ভাল হয়।
এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে দ্য ওয়ালকে ওমপ্রকাশ মিশ্র বলেছেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, সেটি নিয়ে অবশ্যই আমার ব্যাখ্যা নেওয়া উচিৎ বলে মনে করি। আমার অজ্ঞাতে কে বা কারা কখন কী অভিযোগ করছে সেটা আমার জানা দরকার। আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। তাই এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা ঠিক হবে না। ”
তবে ঘটনা হল, শিক্ষা দফতরে চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক জানিয়েছে, মওলানা আজাদ ইনস্টিটিউট অফ এশিয়ান স্টাডিজের প্রাক্তন প্রশাসনিক কর্তা তথা ফিনান্স অফিসার দীপক দত্ত ইতিমধ্যে ওমপ্রকাশ মিশ্রর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ জানিয়ে রেখেছেন। ওমপ্রকাশ তখন এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। সেই সময়ে প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর ছিলেন শ্রীরাধা দত্ত।
দীপক দত্তের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তিন সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটি প্রাথমিক ভাবে অভিযোগ খতিয়ে দেখে ওমপ্রকাশ মিশ্রর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।
কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের মতে, এই কারণেই ওমপ্রকাশকে ইসি-র সদস্য করার ব্যাপারে রাজ্য সরকার যে প্রস্তাব করেছে তা গ্রহণ করা সমীচিন বলে মনে করা হচ্ছে না।
শিক্ষা দফতর সূত্রে বলা হচ্ছে, এ ঘটনা রাজ্য সরকারের কাছেও অস্বস্তিকর। ওমপ্রকাশের নাম প্রস্তাব করার সিদ্ধান্ত হয়তো রাজনৈতিক নেতারা নিয়েছিলেন। কিন্তু উচ্চ শিক্ষা দফতরের উচিত ছিল ওমপ্রকাশের পূর্বাপর খতিয়ে দেখে নবান্নকে যথাযথ পরামর্শ দেওয়া।
দ্য ওয়ালকে ওমপ্রকাশ আরও বলেছেন, “আমাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা হচ্ছে, চক্রান্ত হচ্ছে। এর আগে আচার্য (রাজ্যপাল) আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও চিঠি পাইনি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে উনি তদন্ত চেয়েছিলেন, সেই বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি। অর্থাৎ আরএসএস-বিজেপির বিরুদ্ধে মুখ খুললেই কোনও না কোনও ভাবে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। অথচ ঠিক কী অভিযোগ তা জানা যাচ্ছে না।”
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য জানিয়েছেন, তিনি ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি মওলানা আজাদ ইনস্টিটিউট অফ এশিয়ান স্টাডিজের মেম্বার ছিলেন। ২০১৯ সাল থেকে আবার মেম্বার হয়েছিলেন। তাঁর দাবি, “এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল একটি ভার্চুয়াল মিটিং ছাড়া আর কোনও মিটিং ডাকেনি। কারণ আমি ওদের ভুলগুলো ধরতাম, তাই।”
ওমপ্রকাশ মিশ্র এক সময়ে কংগ্রেসে ছিলেন। বাংলায় পরিবর্তনের ভোট তথা ২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি মানস ভুইঞাঁর ছায়াসঙ্গী ছিলেন ওমপ্রকাশ। পরে মানসের সঙ্গে ওমপ্রকাশের দূরত্ব তৈরি হয়। কংগ্রেসের থেকে রাজ্যসভার সদস্য পদ আশা করতেন তিনি। কংগ্রেস তা না করায় ওমপ্রকাশ দল ছাড়েন এবং তৃণমূলে যোগ দেন। অবশ্য তৃণমূলেও রাজনৈতিক ভাবে বিশেষ সুযোগ তিনি পাননি। শেষমেশ তাঁকে উত্তরবঙ্গের উপাচার্য করা হয়েছিল। কিন্তু রাজ্যপাল সেই পদ থেকে সরানোর পর বিকল্প বন্দোবস্ত করার আয়োজন শুরু হয়েছিল। যাতে আবার বাধ সাধল দিল্লি। যদিও ওমপ্রকাশের দাবি, তাঁকে রাজ্যপাল সরাননি। তাঁর অন্তর্বর্তী মেয়াদ শেষ হয়েছিল।