
শেষ আপডেট: 28 January 2023 06:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) বিচারপতিদের নিয়োগ এবং বদলির অধিকার নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সঙ্গে কেন্দ্রের (Center) আইন মন্ত্রকের বিবাদ (dispute) অব্যাহত। সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের পাঠানো ত্রিপুরা, ওড়িশা এবং মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের বদলির সুপারিশ আটকে দিয়েছে কেন্দ্রের আইনমন্ত্রক।
ওই তালিকায় আছেন ২০২০ সালে দিল্লির দাঙ্গায় ঘৃণা ভাষণের দায়ে অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে বলা বিচারপতি এস মুরলিধরও। ওই নির্দেশ দেওয়ার পরদিনই তাঁকে পাঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলি করে দেওয়া হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম তাঁকে মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি করার সুপারিশ করেছে। কিন্তু কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে থমকে গিয়েছে তিন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের বদলির আদেশ।
এদিকে, বিচারালয়ের সঙ্গে সরকারের ধারাবাহিক বিবাদ নিয়ে মুখ খুলেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রহিন্টন ফলি নরিমান। সর্বোচ্চ আদালতে থাকাকালে সিনিয়র বিচারপতি হিসাবে তিনি দীর্ঘ সময় কলেজিয়ামের সদস্য ছিলেন তিনি। বিচারপতি নিয়োগের কলেজিয়াম ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী কিরেন রিজিজুর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ‘গালিগালাজ’ বলে অভিহিত করেছেন এই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি।
তাঁর কথায়, যদি স্বাধীন বিচার বিভাগের শেষ স্তম্ভটি পড়ে যায় তবে দেশ অতল গহ্বরে প্রবেশ করবে। একটি নতুন অন্ধকার যুগের সূচনা হবে। তিনি আরও বলেন, কলেজিয়ামের সুপারিশ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ফেলে রাখা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক প্রবণতা।
২০২১ সালের অগস্টে সুপ্রিম কোর্ট থেকে অবসর নেওয়া নরিমান মুম্বইতে ভারত ও আমেরিকার বিচার ব্যবস্থার উপর তুলনামূলক আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের চলতি বিতর্ক নিয়ে মুখ খোলেন।
তিনি বলেন, আমরা বিচারপতি নিয়োগের চলতি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য শুনেছি। আমি আইনমন্ত্রীকে বলতে চাই, দুটি অত্যন্ত মৌলিক সাংবিধানিক বিষয় রয়েছে যা আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে। একজন নাগরিক হিসাবে আপনি সমালোচনা করতেই পারেন। কোনও সমস্যা নেই, তবে কখনই ভুলে যাবেন না, আপনি একজন কর্তৃপক্ষ এবং একজন কর্তৃপক্ষ হিসাবে, আপনি সঠিক বা ভুল সিদ্ধান্তের দায়ভার নিতে বাধ্য।
তাঁর পরামর্শ, সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম অর্থাৎ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সিনিয়র বিচারপতিদের কমিটির সুপারিশ সম্পর্কে সরকার তিরিশ দিনের মধ্যে মত জানাবে, এই মর্মে সর্বোচ্চ আদালতের রায়দান জরুরি। কলেজিয়ামের সুপারিশ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বসে থাকা গণতন্ত্রের জন্য খুবই মারাত্মক।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, গত সপ্তাহে নিজের বক্তব্যের সমর্থনে আইন মন্ত্রী কিরেন রিজিজু দিল্লি হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির বক্তব্য টুইট করেছিলেন। সেই বিচারপতির বক্তব্য ছিল, সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানকে কুক্ষিগত করে রেখেছে। বিচারপতিরা বিচারপতিদের নিয়োগ, বদলি করতে পারেন না। এখন দেখার অবসরপ্রাপ্তি বিচারপতিদের আর কেউ মুখ খোলেন কিনা এবং কোন পক্ষের হয়ে গলা ছাড়েন।
রিজিজু প্রায় এক পক্ষকাল আগে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়কে লেখা চিঠিকে বলেন, কলেজিয়ামে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি রাখতে হবে। প্রধান বিচারপতি এখনও সেই চিঠির জবাব দেননি। আদালত সূত্রে অবশ্য বলা হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্ট এই দাবি মানবে না।
বাজেটের আগে আদানির শেয়ারে মহাপতন, স্টেট ব্যাঙ্ক-এলআইসির উপর কি আঘাত আসবে?