
আরজি করে ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডে ধৃত সঞ্জয় রায়। (বাম দিকে)। আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ (ডান দিকে)
শেষ আপডেট: 25 August 2024 12:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সব কিছু ঠিক থাকলে রবিবারই পলিগ্রাফ টেস্ট হতে পারে আরজি কর কাণ্ডে ধৃত কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়ের। ইতিমধ্যে সিবিআইয়ের দিল্লি থেকে আসা বিশেষ প্রতিনিধি দল পৌঁছে গিয়েছেন প্রেসিডেন্সি জেলে। এখানেই রয়েছে সঞ্জয়।
জানা যাচ্ছে, রবিবারই সঞ্জয়ের পলিগ্রাফ টেস্ট করা হবে। এজন্য তদন্তকারীরা সঙ্গে করে প্রশ্নমালাও নিয়ে এসেছেন বলে সিবিআ সূত্রের খবর।
আরজি কর হাসপাতালে তরুণী পড়ুয়া-চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের তদন্ত করছে সিবিআই। প্রধান ও একমাত্র অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের পলিগ্রাফ টেস্টের অনুমতি আগেই পেয়েছিল তাঁরা। এর পরে প্রাক্তন অধ্যক্ষ ডক্টর সন্দীপ ঘোষ, আরজি কর হাসপাতালের আরও চার জন সদস্য এবং অপর এক সিভিক ভলান্টিয়ারের পলিগ্রাফ টেস্ট করার জন্য অনুমতি চায় তারা। মঞ্জুর হয়েছে তাও।
সিবিআই সূত্রের খবর, শনিবার থেকেই পলিগ্রাফ টেস্টের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সঞ্জয়ের পলিগ্রাফ হবে হাসপাতালেই। এজন্য শনিবারও প্রেসিডেন্সি জেলে গিয়ে পলিগ্রাফ টেস্টের জন্য যে প্রস্তুতি দরকার সেগুলি তাঁরা খতিয়ে দেখেন। বেশ কিছু অফিশিয়াল নথি জেল কর্তৃপক্ষের কাছে জমাও দেন তদন্তকারীরা।
এই পলিগ্রাফ টেস্ট কী?
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পলিগ্রাফ টেস্ট এমন এক পরীক্ষা, এই টেস্ট চলার সময়ে যখন কোনও প্রশ্নের উত্তর দেন অভিযুক্ত, তখন তাঁর হার্টরেট, রক্তচাপ, নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের মতো বিভিন্ন শারীরিক বিষয়গুলি পরিমাপ করা হয়। মিথ্যে কথা বলার সময়ে এই প্যারামিটারগুলির হেরফের হয়, যা দেখে বোঝা যায়, টেস্টে অংশগ্রহণ করা ব্যক্তি মিথ্যে বলছেন কিনা।
এই টেস্টে চার থেকে ছয়টি সেন্সর ব্যবহার করা হয়। পলিগ্রাফ পরীক্ষা নেওয়ার জন্য একটি মেশিন ব্যবহার করা হয়। সেখানে এই সেন্সর থেকে একাধিক সংকেত কাগজের একটি স্ট্রিপে গ্রাফ আকারে রেকর্ড করা হয়। সেই গ্রাফ খুঁটিয়ে দেখেই বোঝা যায়, টেস্টে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি সত্যি বলছেন, নাকি মিথ্যে। তবে অনেকেই মনে করেন, প্রশ্নের উপরও এই টেস্টের নির্ভুলতা অনেক রকম বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। সব মিলিয়ে ৮০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে নির্ভুল উত্তর পাওয়া যেতে পারে এতে।