
শেষ আপডেট: 9 October 2023 12:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুধু তৃণমূল নেতা-মন্ত্রী নয়, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার সিবিআইয়ের রেডারে এক প্রাক্তন বিজেপি পুরপ্রধানও। রবিবারের পর সোমবার সাতসকালেই নদিয়ার রানাঘাট পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বিজেপি বিধায়ক পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে হাজির হয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সির গোয়েন্দারা। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে বিজেপি নেতার বাড়ি ঘিরে শুরু হয়েছে তল্লাশি। তবে ওই নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি।
পুর-নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে হঠাৎ করেই কোমর বেঁধে নেমেছে সিবিআই। গতকাল অর্থাৎ রবিবার ছুটির দিনে সাত সকালেওই সিবিআই কর্তারা হানা দিয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের ভবানীপুর ও দক্ষিণেশ্বরের বাড়িতে। আরও একটি দল হানা দেয় কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে। এছাড়া কাঁচারাপাড়া, হালিশহর, কৃষ্ণনগর, দক্ষিণ দমদম সহ রাজ্যজুড়ে মোট ১২টি পুরসভার নেতামন্ত্রীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল সিবিআই। তার আগে বৃহস্পতিবার রেড করা হয় খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের বাড়িতে।
স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে প্রোমোটার অয়ন শীলের নাম পায় কেন্দ্রীয় এজেন্সি। সেই অয়ন শীলের সূত্র ধরেই সামনে আসে রাজ্য জুড়ে একাধিক পুরসভায় নিয়োগে দুর্নীতি। সিবিআই-ইডি যৌথভাবে এই ঘটনায় তদন্তে নামে। গত কয়েক মাসে একাধিক পুরসভার নেতা-কর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তবে এখনও পর্যন্ত পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় যাঁদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে, তাঁরা সবাই শাসকদলের নেতা-মন্ত্রী। পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ই প্রথম বিজেপি নেতা, যাঁর নাম জড়াল পুর-নিয়োগ দুর্নীতিতে। তবে একথাও জানা গেছে, যে সময় তিনি পুরপ্রধান ছিলেন, সেই সময় তিনি ঘাসফুল শিবিরেরই নেতা ছিলেন, পড়ে জ্প্গ দেন বিজেপিতে।
রবিবার মদন মিত্রের বাড়িতে ৫ ঘণ্টা ছিল সিবিআই। ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে আরও বেশি, প্রায় ১০ ঘণ্টা। তবে সিবিআই চলে যাওয়ার পর মদন যতটা ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন, ববির ক্ষেত্রে তা হয়নি। মদন জানান, তাঁর বাড়ি থেকে কিচ্ছু পায়নি তদন্তকারীরা। এমনকী, কোন পুরসভা সংক্রান্ত মামলায় তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চলছে তাও জানানো হয়নি। তল্লাশি ছাড়া কোনও জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি। সেই সঙ্গে বুক বাজিয়ে একথাও জানান, তাঁহার বিরুদ্ধে কেউ ১ ইঞ্চিও দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারলে গলায় দড়ি বেঁধে গঙ্গায় ঝাঁপ দেবেন।
গোয়েন্দারা যেতেই রগে ফেটে পড়েন পুরমন্ত্রী ববি হাকিম। স্ত্রী-কন্যাকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করার সময় কার্যত মেজাজ হারান তিনি। রাগে কাঁপতে কাঁপতেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে বারবার ইচ্ছাকৃত হেনস্থার অভিযোগ তোলেন। তারপর অবশ্য ভ্রম শুধরে নিয়ে বলেন, এতে তদন্তকারীদের হাত নেই। বরং কেন্দ্রের অঙ্গুলিহেলনেই এমনটা করছেন তাঁরা। রাজ্যের মানুষের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় এজেন্সির প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, কেউ যদি অভিযোগ করে তিনি ১ টাকাও নিয়েছেন , তাহলে পদত্যাগ করবেন তিনি।
তবে শাসক দল কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইডি-সিবিআইকে চালিত করার অভিযোগ তোলার মধ্যেই এবার বিজেপি নেতার বাড়িতেও হানা দিল সিবিআই। ভবিষ্যতে পুরনিয়োগ দুর্নীতিতে আরও বিজেপি নেতা-মন্ত্রীর নাম জড়ায় কিনা সেটাই এখন দেখার।