
জীবনকৃষ্ণ সাহা।
শেষ আপডেট: 19 May 2024 12:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছরের ১৭ এপ্রিল নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আচমকাই বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়িতে হানা দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা। তথ্য লোপাটের চেষ্টায় বাড়ির পিছনে থাকা পুকুরে নিজের দুটি মোবাইল ছুড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল বিধায়কের বিরুদ্ধে। পাম্পের সাহায্য জল ছেঁচে টানা প্রায় তিনদিনের চেষ্টায় পুকুরের কাদা পাঁক থেকে মোবাইল দুটি উদ্ধার করেছিলেন তদন্তকারীরা।
১৩ মাস পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আপাতত জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক। ভোটের মাঝে শনিবার রাতে আন্দি গ্রামে নিজের পৈতৃক বাড়িতে ফিরেছেন তিনি। গ্রামে ঢুকে কালীমন্দিরে প্রণাম করলেন। বাড়ির সামনে বিধায়ককে বরণ করে নিলেন দলের একাংশ কর্মীও।
জীবনকৃষ্ণ বললেন, ‘‘সত্যি খুব ভাল লাগছে। গর্ব করে বলতে পারি সত্যের জয় হয়েছে। আমি ফিরে আসায় দলের কর্মীরা আনন্দিত।’’
সত্যি কি তাই? দলের একাংশ নেতা, কর্মী এই ভেবে শঙ্কিত যে যদি জীবনকৃষ্ণের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে এবং প্রতারিতরা টাকা ফেরতের দাবিতে বিধায়কের বাড়িতে হানা দেয়, তাহলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে?
নেতা, কর্মীদের এমন আশঙ্কার নেপথ্যে রয়েছে আরও একটি কারণ। নিয়োগ মামলায় গত এপ্রিলেই ২০১৬ সালের আস্ত প্যানেল বাতিল করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। শীর্ষ আদালত ওই নির্দেশে আপাতত স্থগিতাদেশ দিলেও জীবনকৃষ্ণ জামিন পেতেই ফের জনমানসের চর্চায় উঠে আসছে বিধায়কের কল হিস্ট্রির প্রসঙ্গ।
জীবনকৃষ্ণের অবশ্য দাবি, "আদালতের নির্দেশ মেনে চলব। আশা করি আমি বিচার পাব এবং সত্যের জয় হবে।’’
কি পাওয়া গিয়েছিল তৃণমূল বিধায়কের কল হিস্ট্রি ঘেঁটে?
গত অগস্টে জীবনকৃষ্ণের ওই মোবাইল ঘেঁটে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গিয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। সিবিআই সূত্রের খবর, চাকরি দেওয়ার জন্য টাকা নিয়েও শেষ পর্যন্ত যাদের চাকরি দিতে পারেননি সেই সব চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে জীবনকৃষ্ণের কথোপকথনের একাধিক তথ্য রয়েছে ওই চ্যাটে।
কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, সেখানে টাকা ফেরতের অনুরোধ করেছেন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। পাল্টা হিসেবে বিধায়কের তরফে কখনও ‘অর্ধেক টাকা ফেরৎ দেওয়ার আশ্বাস’, কখনও বা ‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে এক পয়সা না দেওয়ার হুঁশিয়ারি’ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে সেই সময় এও দাবি করা হয়েছিল, চাকরি দেওয়ার জন্য কারও কাছ থেকে ১২ লক্ষ, কারও কাছে ১৮ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন বিধায়ক।