দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Recruitment Scam) এবার একটি লম্বা তালিকা তৈরি করল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই (CBI)। কারা কারা সুপারিশের মাধ্যমে চাকরি পেয়েছিলেন, কারা তাঁদের জন্য সুপারিশ করেছিল, তা জানতেই ১৩২ জনের একটি তালিকা (List) তৈরি করেছে তাঁরা। সূত্রের খবর, একে একে এদের সকলকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করছে সিবিআই।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, কালীঘাটের কাকু ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র সহ একাধিকজনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে চার্জশিট পেশ করেছে সিবিআই। এবার তাঁদের নজরে চাকরির সুপারিশকারীরা। তদন্তে ইতিমধ্যে একাধিক প্রভাবশালীর নাম উঠে এসেছে। এঁদের মধ্যে অনেকেই চাকরির জন্য বিভিন্ন জনের নাম সুপারিশ করেছিলেন বলে জানতে পড়েছে সিবিআই। ১৩২ জনের তালিকা প্রস্তুত করে, তাদের ধাপে ধাপে জিজ্ঞাসাবাদ করে এখন আরও বড় তথ্য হাতে পেতে এখন তৎপর গোয়েন্দা সংস্থা।
যে ১৩২ জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে তাঁদের সকলের বয়ান রেকর্ড করতে চায় সিবিআই। এর আগে বিকাশ ভবনে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে একাধিক চাকরিপ্রার্থীর তালিকা পেয়েছিল তাঁরা। এখন সিবিআই এটাই জানতে তৎপর যে মূলত কারা কারা সুপারিশের মাধ্যমে চাকরি পেয়েছে। কারা সুপারিশ করেছিল, কীভাবে যোগাযোগ হয়েছিল, অ্যাডমিট কার্ড কীভাবে পেয়েছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা, সেসব তথ্য এই তালিকাভুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই জানা যাবে বলে আশা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার।
আরও একটি বড় বিষয় এই জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সামনে আসতে পারে। নিয়োগ মামলায় টাকার লেনদেন হয়েছে এটা তো স্পষ্ট হয়েই গেছে। এবার সিবিআই জানতে চাইছে সুপারিশকারীরা কারা কত টাকা দিয়েছেন, বা আদৌ দিয়েছেন কিনা। টাকা দিলে কাদের মারফৎ, কার কাছে পাঠানো হয়েছে সেটাও লক্ষ্যণীয় বিষয়। ১৩২ জনের মধ্যে কতজন আদতে চাকরি পেয়েছিলেন সেটাও দেখার বিষয়।
সম্প্রতি এই মামলায় সিবিআইয়ের জমা দেওয়া সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে উঠে আসে জনৈক ‘অভিষেক ব্যানার্জী’র নাম। তাতে শোরগোল পড়ে যায়। অভিযোগ, এই চক্রের মাধ্যমে বেআইনিভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য ১৫ কোটি টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছিল। তবে এই ‘অভিষেক ব্যানার্জী’ ঠিক কে, কী তাঁর পরিচয়, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেনি তদন্তকারী সংস্থা।
সিবিআই শুধু জানায়, ২০১৭ সালে কলকাতার বেহালায় সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র অর্থাৎ কালীঘাটের কাকুর বাড়িতে একটি বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুজয়কৃষ্ণ নিজে, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়, কুন্তল ঘোষ ও আরও কয়েকজন। জানা যাচ্ছে, কুন্তল ঘোষের এক কর্মী, অরবিন্দ রায় বর্মন, গোপনে সেই বৈঠকের অডিও রেকর্ড করেন, যা পরে তদন্তকারীদের হাতে আসে। সেই রেকর্ডিংয়ে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, চাকরি বিক্রির একটি বিশাল চক্র সক্রিয় ছিল।