
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 12 September 2024 18:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর জি কর হাসপাতালে ডাক্তার-ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনার তদন্ত করছে সিবিআই। কিন্তু প্রায় মাসখানেক ধরে চলা তদন্তে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশাল কোনও গোয়েন্দাগিরির সাফল্য মেলেনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখেও সেই অভিযোগ শোনা গিয়েছে। শুধু বাংলাতেই নয়, সিবিআইয়ের হাতে এমন কয়েকহাজার মামলা পড়ে রয়েছে যার সুরাহা করতে পারেনি দেশের এলিট তদন্তকারী সংস্থা। বিশেষত দেশে শিহরণ জাগানো বেশ কয়েকটি খুনের রহস্যভেদ এখনও করে উঠতে পারেনি সিবিআই।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারের আমলে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। সিবিআইকে তোতাপাখি, সরকারের হাতের পুতুল এসব অভিযোগ বস্তাপচা হয়ে গিয়েছে। তা সত্ত্বেও সিবিআই নির্বিবাদে কাজ করে গিয়েছে, কোথাও কোথাও আদালতে ভর্ৎসনার মুখে পড়েছে। বেশ কিছু মামলায় অপরাধ প্রমাণিত না করতে পারার ব্যর্থতায় অভিযুক্ত বেকসুর মুক্তিও পেয়েছে।
২০২০ সালের ১৪ জুন বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের দেহ উদ্ধার হয় তাঁর মুম্বইয়ের ফ্ল্যাট থেকে। প্রাথমিক তদন্তে মুম্বই পুলিশ জানায়, এটি একটি সাধারণ আত্মহত্যার ঘটনা। কিন্তু, দেশজুড়ে সমালোচনা এবং সংবাদমাধ্যমের শিরোনামের চাপে সেই তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। আর সেই তদন্ত আজও চলছে। এমনকী তদন্তকারী সংস্থা এখনও সরকারিভাবে জানাতে পারেনি যে, এই মৃত্যু হত্যা না আত্মহত্যা! জনসাধারণের কাছে এখনও কোনও জবাবদিহি করেনি কর্তৃপক্ষ।
২০১২ সালে শিনা বোরা হত্যাকাণ্ড গোটা দেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। যেখানে খুনি হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছিলেন মা ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায় ও সৎবাবা পিটার মুখোপাধ্যায় এবং অন্যান্য। এখানেও গ্রেফতার ও চার্জ গঠন করা হয়। কিন্তু বহু প্রশ্নের উত্তর না মেলায় এই মামলা জটিল আকার ধারণ করে। তাই আজ পর্যন্ত এই মামলার সম্পূর্ণ সত্য অস্পষ্টই রয়ে গিয়েছে এবং বিতর্কিত হয়েই রয়েছে।
কংগ্রেস নেতা শশী তারুরের স্ত্রী সুনন্দা পুষ্করের মৃত্যু। ২০১৪ সালে দিল্লির একটি হোটেলে রহস্যজনকভাবে উদ্ধার করা হয় সুনন্দা পুষ্করের মৃতদেহ। সেই সময় বিভিন্ন তত্ত্বের কথা উঠে আসে। কখনও বলা হয় বিষক্রিয়া, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হয়নি তদন্তকারীদের পক্ষে। সিবিআই তদন্তে নির্দিষ্ট কোনও উপসংহারে আসা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি যে, আদৌ সুনন্দাকে খুন করা হয়েছিল নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন অথবা স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল।
২০১৩ সালের জিয়া খান মৃত্যুরহস্য। বলিউড অভিনেত্রী জিয়া খানকে তাঁর মুম্বইয়ের ফ্ল্যাট থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক অবস্থায় পুলিশ একে আত্মহত্যা বলে দাবি করে। কিন্তু জিয়ার মা খুনের অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত করা হয় অভিনেতা সুরজ পাঞ্চোলিকে। মুম্বই পুলিশ তদন্তে গাফিলতি করছে এই অভিযোগ ওঠায় মামলা পৌঁছায় সিবিআইয়ের হাতে। আজও সিবিআই খুনের দাবির সপক্ষে কোনও উপযুক্ত প্রমাণ তল্লাশ করতে পারেনি, মামলাটি অন্ধকারেই থেকে গিয়েছে।
২০০৮ সালের আরুশি তলোয়ার এবং হেমরাজ জোড়া খুনের রহস্য। আরুশি এক চতুর্দশী নাবালিকা। হেমরাজ ছিলেন তলোয়ার পরিবারের গৃহভৃত্য। নয়ডার জোড়া হত্যাকাণ্ড বলে বিখ্যাত এই ঘটনায় দুজনের দেহ বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়। সিবিআইয়ের প্রাথমিক সন্দেহ গিয়ে পড়ে আরুশির বাবা-মা রাজেশ এবং নূপুর তলোয়ারের উপর। নিম্ন আদালতে তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করে। কিন্তু পরে এলাহাবাদ হাইকোর্টে তাঁরা মুক্তি পেয়ে যান। কারণ হিসেবে আদালত বলেছিল, উপযুক্ত প্রমাণের অভাব। সত্যকারের অপরাধীদের আজও চিহ্নিত করা যায়নি।
অনুরাধা বালি ওরফে ফিজা খুন রহস্য। ২০২১ সালে ফিজার দেহ উদ্ধার হয়। হরিয়ানার প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী চন্দ্র মোহনের প্রাক্তন স্ত্রী ছিলেন ফিজা। এই মামলাতেও সিবিআই মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করতে পারেনি। যার ফলে আত্মহত্যার তত্ত্বই হাওয়ায় ঘুরতে থাকে।
২০১১ সালের সাংবাদিক জ্যোতির্ময় দে হত্যাকাণ্ড। মুম্বইয়ে অন্ধকার জগৎ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ মিড ডে নামে একটি পত্রিকার এই সাংবাদিককে গুলি করে খুন করা হয়। মোটরবাইকে এসে দুষ্কৃতীরা খুব কাছ থেকে তাঁকে গুলি করে। এই খুনে উঠে আসে মুম্বইয়ে কুখ্যাত মাফিয়া ডন ছোটা রাজনের নামও। কিন্তু আদালত শেষমেশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণাভাবে সিবিআই তদন্তে ইতি ঘটায়।