
শেষ আপডেট: 9 March 2024 08:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ৫ জানুয়ারি রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে অভিযুক্ত শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি করতে গিয়ে উন্মত্ত জনতার হাতে আক্রান্ত হন ইডির তিন আধিকারিক। ওই ঘটনায় এবার শাহজাহানের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করল সিবিআই।
আদালতের নির্দেশে গত বুধবার শাহজাহানকে সিআইডির কাছ থেকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে সিবিআই। সন্দেশখালি কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। তার মধ্যে একটি মামলা সিবিআই আগেই দায়ের করেছিল। তাতেই এবার খুনের চেষ্টার অভিযোগ যুক্ত করা হল।
সিবিআই সূত্রের খবর, প্রথম দিকে ঔদ্ধত্য দেখালেও ধীরে ধীরে ভাঙতে শুরু করেছেন তিনি। কী করে ইডির উপর হামলা হয়, কারা হামলা চালায়, তা নাকি তাঁর জানাই নেই, প্রাথমিকভাবে এমনই দাবি ছিল শাহজাহানের। তবে দুঁদে তদন্তকারীদের টানা জেরায় শুক্রবারই সিবিআইয়ের কাছে প্রথম মুখ খুলেছেন সন্দেশখালির 'বাঘ'।
সেদিনের হামলার ভিডিও দেখে অভিযুক্তদের পরিচয় জানিয়েছেন। হামলার ফুটেজ দেখে তদন্তকারী সংস্থা নিশ্চিত, ইডি সেদিন পিছু না হটলে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারতো।
গত ৫ জানুয়ারিতে রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে অভিযুক্ত শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি করতে গিয়ে আক্রান্ত হন তিন ইডি আধিকারিক। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সির উপর চড়াও হয় শাহজাহানের অনুগামীরা। এরপর থেকেই ‘নিঁখোজ’ হয়ে যায় শেখ শাহজাহান। সিবিআই সূত্রের খবর, জেরায় শাহজাহানকে গত ৫ জানুয়ারির ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও এবং স্টিল ছবি দেখানো হয়েছে। যা দেখেই ওই হামলার ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন তাঁদেরকে চিহ্নিত করেছে শাহজাহান।
ইডির উপর হামলাকারীদের নাম, ঠিকানা সহ সমস্ত পরিচয় শাহজাহানের থেকেই জানতে পেরেছে সিবিআই অফিসাররা। একইসঙ্গে কার নির্দেশে ওই দিন চরম বিশৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল জেরায় শাহজাহান সেই তথ্যও সিবিআইকে জানিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
শাহজাহানের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার সকালে সন্দেশখালিতে পৌঁছে যায় সিবিআই অফিসাররা। সঙ্গে ছিলেন ইডির দুই অফিসার এবং ফরেনসিক দল। শাহজাহান গত ৫ জানুয়ারির সন্দেশখালির ঘটনায় অভিযুক্ত যাদের চিহ্নিত করেছে তাঁদেরও খোঁজ চলছে।
প্রসঙ্গত, ৫৬ দিন বেপাত্তা থাকার পর গত ২৯ ফেব্রুয়ারি সন্দেশখালির মিনাঁখা থেকে শাহজাহানকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশ। এরপর শাহজাহানের তদন্তভার নেয় সিআইডি। কিন্তু পরবর্তীকালে কলকাতা হাইকোর্ট শাহজাহানকে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য সিআইডি-কে নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশে শাহজাহানকে হেফাজতে রেখে সন্দেশখালিকাণ্ডের সমস্ত তথ্য জোগাড় করছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।