
শেষ আপডেট: 27 September 2023 02:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জলাতঙ্কের (Rabies) আতঙ্ক দেশজুড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে পথকুকুর বা পোষ্যের আক্রমণে জখম বা মৃত্যু হওয়ার ঘটনা অনেকগুলোই ঘটেছে। পরিসংখ্যান বলছেন, এ বছরে গোটা দেশে জলাতঙ্কের বলি ২১ হাজারের বেশি মানুষ। তথ্যানুসারে, দেশে এই মুহূর্তে তিন থেকে ছয় লক্ষ পথকুকুর আছে। সবচেয়ে বেশি জলাতঙ্কে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে দিল্লি, কর্ণাটক এবং বাংলায়।
অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল অব রেবিস ইন ইন্ডিয়া সূত্রে খবর, জলাতঙ্কের প্রতিষেধক সম্পর্কে সচেতনতা এখনও কম। চিকিৎসকদেরও এ ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা নেই। অথচ এই মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হলে একমাত্র চিকিৎসা হল যথাসময়ে সঠিক টিকাকরণ। বহুক্ষেত্রেই তা না-হওয়ায় আজকের দিনেও এই ভাইরাসঘটিত রোগে ভয়ঙ্কর কষ্ট পেয়ে মারা যাচ্ছেন হাজারো মানুষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বহু ক্ষেত্রেই হাসপাতাল বা দোকানগুলিতে প্রতিষেধক টিকা সঠিক তাপমাত্রায় রাখা হয় না। এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় প্রতিষেধক বয়ে আনার ক্ষেত্রে যে সব নিয়ম মানা দরকার, অনেক সময়ে তা মানা হচ্ছে না। টিকা (Rabies) ঠিক কী ভাবে দেওয়া দরকার, সেটাও বহু চিকিৎসক জানেন না। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জলাতঙ্কে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে। তাদের মধ্যে সর্বাধিক মৃত্যুর ঘটনার সাক্ষী আমাদের ভারত।
কুকুর ছাড়াও বিড়ালের মতো উষ্ণ রক্তের প্রাণীর কামড় থেকেও জলাতঙ্ক হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই তালিকায় রয়েছে বাঘ, সিংহও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জল দেখলেই আতঙ্ক বা হাইড্রোফোবিয়া রোগ খুব সাঙ্ঘাতিক। জ্বর, শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায় ভাইরাসের সংক্রমণে। প্রচণ্ড ঝিমুনি আসে, কখনও খুব উত্তেজিত হয়ে যান রোগী। উপসর্গ প্রকট হওয়ার এক মাসের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: বিধানসভায় ধেড়ে ইঁদুর, চায়ের কাপ উল্টে খুঁটে খাচ্ছে বিস্কুট, নাজেহাল স্পিকারও
নিয়ম অনুযায়ী, কুকুরে কামড়ালে প্রথমে ১৫ মিনিট সাবান দিয়ে ক্ষতস্থানটি কলের জলে ধুতে হয়। কামড়ের মাত্রা বেশি হলে এবং রক্তপাত ঘটলে ক্ষতস্থানে সেরাম অর্থাৎ ইমিউনো গ্লোবিউলিন ইঞ্জেকশন দেওয়া উচিত। পাশাপাশি প্রতিষেধক নিতেই হয়। কখন শুধু প্রতিষেধকই যথেষ্ট এবং কখন সেরামও প্রয়োজন— তা নির্ভর করবে চিকিৎসকের বিবেচনার উপর। প্রতিষেধকের কার্যকারিতা শুরু হতে দু’সপ্তাহের মতো সময় লাগে।
‘অ্যাসোসিয়েশন অব প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল অব রেবিস ইন ইন্ডিয়া জানিয়েছে, অ্যান্টিবডি তৈরি শুরু হয় সাত দিন পর থেকে। পুরোপুরি তৈরি হতে ১৪ দিন লাগে। প্রতিষেধক টিকার অন্তত তিনটি ডোজের আগে অনেক ঝুঁকি থাকে। এই সময়টাতে ইমিউনোগ্লোবিউলিন দিতে হয়। অথচ এই ওষুধই ঠিকমতো পাওয়া যায় না সব জায়গায়। এপিসিআরআই-এর বক্তব্য, জলাতঙ্ক সম্পর্কে ন্যূনতম প্রচারেরও ব্যবস্থা নেই। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতকে জলাতঙ্কমুক্ত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে। কুকুর কামড়ালেই দ্রুত বিজ্ঞানসম্মত ভাবে চিকিৎসা শুরু করতে হবে।