
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 November 2024 21:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যোগ্যদের কোনওভাবেই বঞ্চিত করা যাবে না। সবাই যাতে কাস্ট সার্টিফিকেট হাতে পান সোমবার নবান্নের বৈঠকে তা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন আদিবাসী ও পিছিয়ে পড়া জনজাতির জন্য উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক বসে।
রাজ্যের খাদ্য প্রতিমন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডি জানান, সরকারি প্রকল্পগুলি সম্পর্কে আদিবাসীদের অনেকেই ঠিকমতো জানেন না। সেগুলি যাতে ঠিকমতো প্রচার করা হয় বিডিওদের সেই দায়িত্ব নিতে হবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আদিবাসীদের জমি কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। কিন্তু এই মুহূর্তে কেন্দ্র থেকে সরকারি অনুদান না আসায় কোনও টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। সামগ্রিকভাবে আদিবাসীদের উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ করা উচিত তা জানানোর নির্দেশ দেন।
পাশাপাশি এদিন সব আদিবাসী ভাষাকে একত্রিত করতে বুলুচিক বরাইক, সন্ধ্যারানী টুডু, জ্যোৎস্না মান্ডি এবং বীরবাহা হাঁসদাকে নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করে দেন মমতা। মূলত জনসংযোগ বাড়াতে বিধায়কদের মানুষের কাছে পৌঁছনর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, রাজনৈতিক রং দেখে নয়, সকলের জন্য কাজ করতে হবে।
মূলত, আদিবাসী গ্রামগুলিতে বাইরে থেকে লোকেরা এসে হোম স্টে তৈরি করছেন। তাতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের কোনও উপকার হচ্ছে না। সে কারণে যারা হোম স্টে তৈরি করতে ইচ্ছুক, তাঁদের সরকারি অনুদান দিয়ে সাহায্য করার বিষয়টিও এদিনের বৈঠকে উঠে এসেছে।
পর্যটন বিকাশে বিশেষত জঙ্গলমহল এবং সুন্দরবন এলাকায় হোম স্টেতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য। তাই এই এলাকাগুলিকে স্পেশ্যাল ক্যাটাগরির আওতায় ইতিমধ্যে আনা হয়েছে। পর্যটনের বিকাশে রাজ্যকে যে পাঁচ জোনে ভাগ করা হয়েছে তার মধ্যে ওই স্পেশ্যাল ক্যাটাগরি ছাড়াও দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা রয়েছে বিশেষ জোনের আওতায়। ওই এলাকায় হোম-স্টে গড়ে তোলা হলে, সরকারের তরফে সুযোগ সুবিধা মিলবে অনেকটাই বেশি৷ তবে শুধুমাত্র পর্যটন বিকাশই হোম স্টে ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার একমাত্র কারণ নয়। রাজ্য চাইছে, এর মাধ্যমে একই সঙ্গে পর্যটনের বিকাশ এবং স্থানীয়দের আয় বাড়ানোর রাস্তা খুলে দেওয়া।
তবে এদিনের বৈঠকে আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি তথা মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ঝাড়খণ্ডে ভোট প্রচারে ব্যস্ত থাকার কারণ দেখিয়ে আসেননি তিনি। খগেনের এমন পদক্ষেপকে নিশানা করতে ছাড়েনি তৃণমূল। শাসক দলের অভিযোগ, বিরোধীরা বলে তাঁদের নাকি কোনও বৈঠকেই আমন্ত্রণ জানায় না রাজ্য। কিন্তু বৈঠকে ডাকার পরও না আসা কেমন দ্বিচারিতা প্রশ্ন তৃণমূলের।