
শেষ আপডেট: 15 June 2020 18:30
মে মাসের শেষ থেকে জুন পর্যন্ত ভাইরাসের সংক্রমণ যেভাবে বেড়েছে তাতে চিন্তায় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। বিশেষত মহারাষ্ট্রের করোনা পরিস্থিতি ভাবাচ্ছে। কারণ এই রাজ্যেই সংক্রামিতের সংখ্যা এক লাখের বেশি। বাণিজ্যনগরী মুম্বইতে সংক্রমণ ৫০ হাজারের গণ্ডি পেরিয়েছে। তবে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও সেরে ওঠাদের সংখ্যাও কম নয়। মহারাষ্ট্রে এখনও অবধি করোনা সারিয়েছেন ৫৬ হাজার ৪৯ জন। আশা জাগিয়েছে মুম্বইয়ের সবচেয়ে বড় বস্তি এলাকা ধারাভি এবং ওরলি। বৃহন্মুম্বই পুরসভার বক্তব্য, গত এক সপ্তাহে ধারাভিতে করোনা সংক্রমণে একজনেরও মৃত্যু হয়নি। সংক্রমণ বৃদ্ধির হারও কম। আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার সময় অর্থাৎ ডাবলিং রেটও বেড়ে হয়েছে ৪৪ দিন। সুস্থতার হার প্রায় ৫০%।
রাজধানীতে অবশ্য করোনা পরিস্থিতি এখনও শঙ্কাজনক। আজ অবধি হিসেবে সংক্রামিতের সংখ্যা ৪২ হাজার ৮২৯। মৃত্যু হয়েছে ১৪০০ জনের। দিল্লির করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সোমবারই সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, ২০ জুন থেকে প্রতিদিন রাজধানীতে ১৮ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হবে। দিল্লির কন্টেইনমেন্ট জোনের প্রতিটি বাড়িতে মেডিক্যাল টিম পাঠানো হবে। একই সঙ্গে হটস্পট চিহ্নিত এলাকায় কনট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের কাজও করা হবে।
করোনা সংক্রমণের নিরিখে মহারাষ্ট্র, দিল্লির পরেই রয়েছে তামিলনাড়ু। সেখানেও আক্রান্তের সংখ্যা ৪৬ হাজারের বেশি, সংক্রমণে মৃত্যু ৪৭৯। গুজরাটেও সংক্রমণ বাড়ছে। আক্রান্তের সংখ্যা আজ অবধি ২৪ হাজারের কাছাকাছি। তবে সেরেও উঠেছেন ১৬ হাজারের বেশি।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণ সারিয়েছেন ১০ হাজার ২১৪ জন। মোট সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যার ১ লাখ ৮০ হাজার। হিসেব বলছে, দেশে সুস্থতার হার বেড়েছে ৫২.৫%। করোনা উদ্বেগের মধ্যও যা কিছুটা আশা জাগিয়েছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) বলছে, সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশের ৯০১টি ল্যাবরেটরিতে কোভিড পরীক্ষা করা হচ্ছে। সরকারি ল্যাবের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৫৩টি, পাশাপাশি বেসরকারি ল্যাবরেটরি ২৪৮টি। প্রতিদিন এক লাখের বেশি সংক্রমণ পরীক্ষা করা হচ্ছে। সরকারি হিসেবে দেশে এখন রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর ল্যাবের সংখ্যা ৫৩৪টি, ট্রুন্যাট ল্যাব সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ২৯৬টি। আইসিএমআর জানিয়েছে, কোভিড পজিটিভ ধরা পড়লে দ্রুত চিকিৎসাও হচ্ছে। তাই সুস্থতার হারও বাড়ছে দেশে।