.webp)
শেষ আপডেট: 8 March 2024 22:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আধার কার্ড বাতিল হওয়া নিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হল। মূলত আধার কার্ড আইনের যে ধারায় (২৮এ) তা বাতিল করা হয়েছিল, সেই আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছে ‘এনআরসি’ বিরোধী একটি সংগঠন। তাদের দাবি, আধার আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাটি বৈধ নয়।
মামলাকারীর আইনজীবী ঝুমা সেন দাবি করেন, কোনও কিছু না জানিয়েই একাধিক আধার কার্ড বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে আধার কার্ড ছাড়া কোনও শিশুর জন্ম শংসাপত্র মিলবে না। আবার মৃতুর পর শেষকৃত্য করতে গেলেও প্রয়োজন আধারের। কিন্তু আধার আইনের যে ধারা অর্থাৎ ২৮এ-কে কার্যকর করে আধার বাতিল করা হয়েছে তার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আইনের এই ধারায় পাসপোর্ট আইনে বিদেশি নাগরিকদের কথা বলা হয়েছে। ২০১৬ সালের আধার আইনে এই ধারা ছিল না। ২০২৩ সালে তা সংযুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। মামলাকারীর প্রাথমিক বক্তব্য শোনার পর আপাতত কেন্দ্র তথা অ্যাটর্নি জেনারেলকে নোটিস ইস্যু করার নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী ২১ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
লোকসভা ভোটের মুখে জেলায় জেলায় আধার কার্ড বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এনিয়ে কেন্দ্রকে চিঠিও পাঠানো হয়। মতুয়ারা এই ইস্যুতে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ বলেই দাবি করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। সুর চড়িয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আধার বাতিলের নেপথ্যে এনআরসি। মানুষকে বঞ্চিত হতে দেব না, যা যা করার আমরা করব।
লোকসভা ভোটের আগে জেলায় জেলায় আধার কার্ড বাতিলের ঘটনায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সেই প্রক্রিয়া কেন্দ্র আপাতত স্থগিত রাখলেও ধোঁয়াশা পুরোপুরি কাটেনি। এই অবস্থায় রাজ্য সরকার আধার সমস্যা কাটাতে নিজস্ব পোর্টাল শুরু করবে বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যাঁদের আধার নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছে এই পোর্টালে গিয়ে তাঁরা অভিযোগ জানাতে পারবেন। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘যাঁদের আধার বাতিল হয়েছে তাঁদের আলাদা কার্ড দেবে রাজ্য। ব্যাঙ্ক বা অন্য কাজে কারও কোনও সমস্যা হবে না। মিলবে সরকারি পরিষেবাও।” গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে সেই নতুন পোর্টালও শুরু হয়ে গিয়েছে।