দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল। তখন কেউ কেউ বলেছিলেন, এই অভিযোগের পিছনে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট এসম্পর্কে তদন্ত করেছিল। বৃহস্পতিবার তদন্ত শেষ করে শীর্ষ আদালত জানাল, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়ে থাকতে পারে। সেই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে এনআরসি নিয়ে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক থাকা অসম্ভব নয়।
প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছিল প্রাক্তন বিচারপতি এ কে পট্টনায়েককে। ওই অভিযোগের পিছনে কোনও 'বৃহত্তর ষড়যন্ত্র' আছে কিনা, মিডলম্যান ও ফিক্সাররা বিচারপতিদের 'প্রভাবিত' করতে চাইছে কিনা, তা নিয়ে তদন্ত করেন প্রাক্তন বিচারপতি পট্টনায়েক। আইনজীবী উৎসব বৈঁস প্রথমবার অভিযোগ তুলেছিলেন, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পিছনে 'বৃহত্তর ষড়যন্ত্র' থাকা সম্ভব।
সুপ্রিম কোর্ট এদিন জানিয়েছে, "বিচারপতি পট্টনায়েকের রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।" একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, তদন্তের সময় বৈদ্যুতিন নথিপত্র পাওয়া যায়নি।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর ডিরেক্টর এক রিপোর্টে বলেছিলেন, বিচারপতি গগৈ জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। তাতে অনেকে তাঁর ওপরে অসন্তুষ্ট হয়ে থাকতে পারে। শেষে শীর্ষ আদালত বলেছে, এই মামলা নিয়ে আর কেউ আবেদন করছে না। তদন্ত রিপোর্ট সিল করা থাকবে।
সুপ্রিম কোর্টের তরফে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করা হয়নি। ওই অভিযোগের পিছনে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখাই উদ্দেশ্য ছিল। তাছাড়া প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ তেমন কিছু নেই। ফলে অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখা সম্ভব নয়।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগ নিয়ে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তার ফলেই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছিল কিনা বলা সম্ভব নয়। সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য শুনে উৎসব বৈঁস বলেন, তাঁর ধারণাই সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সত্যিই ষড়যন্ত্র হয়েছিল।