
শেষ আপডেট: 10 December 2023 19:30
সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং
এইচআইভি ও এডস নিয়ে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে বিশ্ব ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ২০ বছরের কঠিন যাত্রাপথে সঙ্গী ছিল মনের জোর। সাইকেল নিয়ে ঘুরেছেন দেশ থেকে দেশান্তরে। ৭ হাজার ৯০ দিন পরে বিশ্বভ্রমণ করে বাড়ি ফিরলেন বাসন্তীর যুবক সোমেন দেবনাথ। ১৯১টি দেশ ঘুরেছেন তিনি। রবিবার বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে দেশের মাটিতে পা রাখেন সোমেন।
বহুদিন ধরে ছেলের সঙ্গে দেখা হয়নি মা শোভারানি দেবনাথের। ছেলে ফিরছে শুনে সকাল হতেই পৌঁছে গিয়েছিলেন দমদম বিমান বন্দরে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছেলের বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়রাও। বিমানবন্দর থেকে সোমনেকে বেরিয়ে আসতে দেখে সকলেই উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন। মায়ের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন সোমেন। ছেলেকে এতদিন পর দেখে চোখের কোণা চিক চিক করে ওঠে শোভারানিরও।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োলজি নিয়ে স্নাতক হওয়ার পরে বিশ্বভ্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন সোমেন। ভেবেছিলেন, বিশ্বের কোণায় কোণায় গিয়ে এইচআইভি ও এডস্ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করবেন। সেই মতো ২০০৪ সালে সাইকেল নিয়ে ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন সোমেন।
২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশ সাইকেলে ভ্রমণ করেন তিনি। তারপরে ২০০৯ সাল পর্যন্ত এশিয়া মহাদেশের সমস্ত দেশে গিয়েছেন। এরপরে ২০১২ সাল পর্যন্ত থেকেছেন ইউরোপে। ২০১৫ পর্যন্ত আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ৫২টি দেশে ঘুরেছেন। ২০২০ সালে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, অ্যান্টার্কটিকা হয়ে চিনে প্রবেশ করেন। কোভিড মহামারির সময় তিনি সেখানেই ছিলেন। এরপরে ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া ও আসিয়ান দেশগুলিতে এডস নিয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে সোমেন জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে থাকার সময় তালিবানরা তাঁকে বন্দি করেছিল। প্রায় ২৪ দিন সেখানে বন্দি ছিলেন। সেখানে তালিবান নেতাদের ভারতীয় রান্না করে খাইয়ে ছিলেন তিনি। অবশেষে পরে তাঁকে মুক্তি দেয় তালিবানরা।
এই কথা বলতে বলতেই সোমেন জানান, এই যাত্রা পথের মধ্যেই বাবা মারা যাওয়ার খবর পেয়ে তাঁকে একবার বাড়িও ফিরতে হয়েছিল। সালভাদর থেকে বাড়ি ফিরে বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করে ফের বেরিয়ে পড়েছিলেন নিজের লক্ষ্যপূরণ করতে।
দীর্ঘ এই ২০ বছরের যাত্রাপথে বিভিন্ন দেশের সরকার ও সেদেশের মানুষের সহযোগিতা পেয়েছেন বাংলার এই যুবক। অবশেষে নিজের মাতৃভূমিতে ফিরে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে তিনি।